Image

Beautiful Chittagong

বহুদিন ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে না। ব্যাক্তিজীবনের নানা ঘটনার ঘনঘটায় নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না বহুদিন।

মেজাজ মন খিচড়ে একাকার। আর পারা যাচ্ছে না , বিশ্রী ব্যাস্ততার এই জীবন থেকে অন্তত কটা দিনের জন্য হলেও মুক্তি চাই। নির্ঝর আর রাহু কে জানালাম। বললাম কোন প্ল্যান নেই, স্রেফ ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়বো। যাবি?? এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করেই উত্তর দিলো, ভাই যাবো।

রাত আটটায় উত্তরা হাজির তিনমূর্তি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলাম। চিটাগাং যাবো। লোকাল ট্রেন ধরে। অই বাজে সীট এ কি করে ঘুম দিলাম মহিষের মত তা আল্লাহ ই ভালো জানেন।

চিটাগং নেমে সিদ্ধান্ত হল বান্দরবান যাবো। সেখান থেকে হয় থানচি, নয় রুমা।

বাস স্টপ এ গিয়ে দেখি সিট নাই!! ছাদে যেতে হবে। ছাদ এর ব্যাপারে বরাবর ই আগ্রহ ছিলো। কিন্তু যেই রাস্তা!!! তাতে একমাত্র জীবনটা নিয়ে থানচি পৌছানো মোটামুটি সংশয়ের ব্যাপার। কিন্তু যেহেতু সীট নেই, অগত্যা ছাদ ই ভরসা!!!

মিলনছড়ি পার হবার পরেই শুরু হলো ঝুম বরষা!!! বাসে্র উপরের ত্রিপল এর নীচে ঢুকে গেলেম তিন মূর্তি।

এই বদ বরষা ঘন্টাখানেক টুপ টাপ করার পর থেমে গ্যালো। ত্রিপল থেকে মাথা বের করে তাজ্জব বনে গেলাম!!! আহা!! পাহাড়!! সবুজের বিভিন্ন লেয়ার! ছাদে না বসে গেলে এমন দৃশ্য দেখা অসম্ভব! দূর দূরান্তের পাহাড়ের সারি কেমন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পাহাড়ে খাজে খাজে মেঘের খেলা। দু এক টুকরো মেঘ এসে আমাদের গায়ে গা এলিয়ে দিচ্ছে!! দূরে কোথাও কালো মেঘ করে বরষা নেমেছে!! অথচ এখানে ঝকঝকে রোদ!! ছাদের রেলিং এ পা এলিয়ে দিয়ে গলা ছেড়ে গান জুড়ে দিলাম।

থানচি পৌছে দেখি গোটা বাজারে আমরা ছাড়া আর এক পিস ট্যুরিস্ট ও নেই!! কে আসবে এই শেষ রমজানের দিকে!! নির্ঝর এর দিকে তাকালাম, এক সেকেন্ড ভাবলো, ভেবে বললো, নাফাখুম!! আমি রাহু একে অন্যের দিকে তাকালাম। ওকে, লক!! গাইড খোঁজো।

সুবিধামত খরচে পেয়ে গেলাম আবুল হোসেন ভাই কে। কাল সকালে যাত্রা, তবে তার আগে মাথা গোজার ঠাই চাই!! ঘাটের পাশের ই এক বোর্ডিং এ আড়াইশো টাকায় থাকার বন্দোবস্ত করে বের হলাম। ফ্রেশ হতে হবে।

ঘাট থেকে উঠতে পারিনি, এর মধ্যেই গরজে উঠলো মেঘ!! একসাথে চিতকার দিয়ে উঠলাম তিনজন!

মড়ার মত ঘুমিয়ে উঠে পড়লাম সকালে!! বরষার হাত থেকে রেহাই নাই!!  অবশেষে পলিব্যাগ কিনে নিজের ও ব্যাগ’দের প্যাকেট করে নেমে গেলাম সাংগু নদী তে।

টুপ টুপ করে বর্ষা দেবী ঝরে পড়তে লাগলেন। সাংগু নদী গোটা দুয়েক বাক নিতেই কলিজার মধ্যে ধাক্কা লাগলো!! যেহেতু এইদিকে আসি নি আগে, শুধু মানুষের লেখাই পড়েছি, একটা কল্পিত ধারনা ছিল। কিন্তু এ যে দেখি কল্পনাকে হার মানিয়ে একাকার!! গতরাতের বর্ষায় নদী হয়ে গেছে ঘাড়ত্যাড়া টিন এইজ প্রেমিকার মত। আনপ্রেডীক্টেবল!!

পানির রঙ কখনো স্বচ্ছ, কখনো একদম ঘোলা। পাথর কাটিয়ে আবুল ভাই এর ট্রলার এগোতে লাগলো।

কিছুক্ষন পরে আবুল ভাই জানালো, পানি কম। আমাদের একটূ পথ হেটে যেতে হবে!! আমাদের ও অবশ্য নামার জন্য মন উখখুশ করছিলো। একটু হেটে যেতেই দেখি খাবারের দোকান। দুটো কলা, বিস্কুট, একটা চা সাটিয়ে দিলাম দুম করেই। একটু হেটে গিয়ে আবার ট্রলার এ উঠলাম।

কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা পৌছে গেলাম রেমাক্রী বাজার। আবুল ভাইয়ের সহায়তায় বোর্ডিং এ জিনিসপত্র রেখে বের হয়ে গেলাম নাফাখুম এর উদ্যেশ্যে। এদিকে বরষা দেবী ঝরেই যাচ্ছেন। আমরা যদিও অনেক খুশী।

রেমাক্রি থেকে গাইড নিয়ে রওনা হলাম , কাজুবাদাম আর আমবাগানের মধ্য দিয়ে কিছু পথ হাটার পরে রেমাক্রী খালের পাড় ধরে হেটে চললাম। কখনো পাহাড়ের খাজ, পাথর ডিঙ্গিয়ে, খাল পার হয়ে, পিচ্ছিল রাস্তা পার হয়ে এগোতে লাগলাম।

ঘন্টা দেড়েক আরো হেটে পাহাড়ীদের জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম নাফাখুম!! দূর থেকে আস্ত আস্তে করে চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক মোহনীয় রূপ!! আহ! নাফাখুম!  

ব্যাগ টা নীচে রেখে উঠে গেলাম ঝরনার উপরে!! প্রাণভরে দেখতে লাগলাম আশপাশ!! ক্যামেরা বের করে ছবি তুললাম কিছু। কিন্তু বেশী ছবি তুলতে সায় দিল না মন। এত সুন্দর চারপাশ!! নিজের চোখ দিয়েই দেখি!!

মাঝখানে দু তিনখানা গান বাদ্য করেও ফেললাম । 

এদিকে বিকেল পড়ে আসছে। ফিরতে হবে। নাফাখুম এর অনন্য রুপ পেছনে ফেলে আমরা ফেরার পথ ধরলাম!!! 

  • : উদ্দেশ্যহীন যাত্রা
  • :
  • : Nafakhum
  • : others
  • : সস্তা হোটেল.
  • : ভাত, ডীম, মাছ, সবজি ও পাহাড়ি ফল
  • : মোট খরচ - ৩৫০০ টাকা

0 comments

Leave a comment

Login To Comment