Image

মেঘদল ও মেঘনা

এই করুণ নেক্রপলিসে শহরবন্দী মেঘেদের দিকে তাকিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছে, নাগরিক বিষাধ গুলোও উড়ে যেতে চাইছে আকাশে। অবচেতন মনেই প্লে লিস্টের “এসো আমার শহরে” শুনতে লাগলাম। হঠাৎ স্ক্রিনে চোখ পড়তেই দেখি শহুরে জোনাকির ছবি দেখাচ্ছে মেঘদল, সদরঘাটে একটা লঞ্চ ঝালাই করছে কিছু লোক, আর তার আগুনের ফুলকি গুলো জোনাকির মত আলো দিচ্ছে।

সাথে সাথে ব্যাগ টা নিয়ে বের হয়ে গেলাম সদরঘাটের উদ্দেশ্যে। নদী মাতার এর ডাক কি উপেক্ষা করা যায়? রাতের বাজে সাড়ে ১১ টা। সদরঘাটে যেতে যেতেই বাজলো সাড়ে বারোটার বেশি। গিয়ে দেখি একটা মাত্র লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে। উঠে গেলাম সাত পাচ না ভেবে।

ঘুমন্ত নদীর বুক চিরে যাচ্ছে লঞ্চ, আর সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। আস্তে আস্তে নিঃশব্দে চলে গেলাম লঞ্চের একদম সামনে। কলকল করে আওয়াজ হচ্ছে নদী থেকে, দূরে বহূদূরে অনেক গুলো আলো মিটিমিটি করে জ্বলছে। কোন বাড়ি হবে বোধয়। হঠাৎ করেই জ্বলে উঠছে লঞ্চের বিশাল এক বড় বাতি। সেই আলোয় নদীতে সামনের ছোট ছোট নৌকা দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে কচুরিপানারয় ঢাকা বিশাল জায়গার বুক চিরে লঞ্চ এগোচ্ছে, পেছন থেকে তাকিয়ে আছে চিরচেনা ঢাকা। আস্তে আস্তে সব আরো নিরব হতে থাকলো, নদীর কলকল আওয়াজ টা আরো স্পষ্ট হতে থাকলো, আর সাথে চলতে থাকলো চেনা মুখ চাঁদ। মনে হল মেঘনা আমার সাথে কথা বলছে। এক হিমেল হাওয়ায় মনে হল পৃথিবীর সবচেয়ে স্বর্গীয় হাওয়া এই বাংলাতেই শুধু রয়েছে। এক দৃষ্টিতে আকাশ দেখতে লাগলাম।

তিনঘন্টার কিছু পরেই চাদপুর চলে এলাম। ঘাটে নেমে সাথে সাথেই একটা হোটেলে ঢুকে চাদপুরের বিখ্যাত ইলিশ, সাদা ভাত, আর ডাল দিয়ে পেটপুজা করে ফেললাম।
এর পর কিছুক্ষন থেকে আবার মনে পড়লো যান্ত্রিক জীবনের কথা। আবার ফিরে আসার লঞ্চ ধরলাম। জীবন যেখানে যেমন। ধন্যবাদ মেঘদল, মস্তিষ্কে ঘুরে বেড়ানোর জন্য।

  •  মেঘদলের সাথে মেঘনা ও চাঁদপুর
  •  Bangladesh
  •  Chadpur
  •  Boat/Launch
  •  স্ট্যান্ডিং টিকেট ১০০ টাকার , তাই ঘুরে দিরেই কাটিয়েছি
  •  খাবারের দাম অনেক বেশি , চা ১০ টাকা

0 comments

Leave a comment

Login To Comment