Image

পায়ে হেঁটে

  • পায়ে হেটে ঢাকা – বরিশাল
  •  
  • নিচে যা লেখা হবে তা অবশ্যই মনযোগ দিয়ে পরবেন।
  •  
  • কথাটা কাল্পনিক হলেও তা বাস্তবে পরিণত করেছি আমরা। 
  •  
  • আমরা দুই বন্ধু HSC পরীক্ষার ১ মাস আগে একসাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।  আড্ডার এক পর্যায় আমার বন্ধু ( ফয়সাল সাদ)  বলে উঠে HSC পর চল অন্যরকম কিছু করি। তারপর আমি (সালেহ আব্দুল্লাহ) বললাম কি আর নতুন করবি। তারপর আমার বন্ধু বলে চল হেটে হেটে বরিশাল যাই।
  • য়ত
  • এটাই ছিল শুরু। এরপর সুধু পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা।
  •  
  • ১ম দিন :-
  •  
  • ৩/৫/২০১৮ তারিখে পরীক্ষা শেষ হয় আমাদের। সুধুমাত্র ১ দিন হাতে সময় পাই প্রস্তুতির। কোনরকম প্রস্তুতি শেষে ৫/৫/২০১৮ তারিখ ঠিক ভোর ৫ টায় আমরা রামপুরা ওয়াপদা রোড থেকে আমাদের যাত্রা শুরু করি। প্রায় ৯ টা নাগাদ আমরা মাওয়া রোডে উঠি। আর তারপর থেকেই শুরু হয় আমাদের উপর প্রকৃতির অত্যাচার। প্রচন্ড গরম এবং ধুলাবালি থাকা সত্ত্বেও আমাদের মনবল আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রথম দিনেই গরমে আমাদের এমন অবস্থা হয় যে কোথাও কোন টিউবওয়েল দেখলেই আমরা হাত মুখ ভিজিয়ে নিতাম। এক পর্যায় আমাদের শরীর এতোটাই খারাপ হয়ে যায় যে আমারা আমাদের জামা ভিজিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছি। এইরকম খারাপ পরিস্থিতির শিকার হয়েও আমরা যাত্রা শুরুর প্রায় ১২ ঘন্টা পর মাওয়া ঘাটে পৌছাই। তারপর পরেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। প্রায় ১:৩০ ঘন্টা একনাগারে বৃষ্টি হওয়ার পর বিকাল ৬:৩০ নাগাদ বৃষ্টি থামলে আমরা লঞ্চে উঠে নদী পার হই। অপর পারে যখন পৌছাই তখন সময়  সন্ধ্যা ৭:৩০। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত অবস্থা হয় যখন সেখানে কোনো থাকার যায়গা পাই না এবং সেই সাথে বৃষ্টি। তারপর বাধ্য হয়ে আমরা CNG চরে ভাংগা উপজেলায় এসে আশ্রয় নেই। ( বলে রাখা ভাল আমরা ওইদিন প্রায় ৫২ কিমি পথ পায়ে হেটে পাড়ি দেই)
  •  
  • ২য় দিন :- 
  •  
  • পরদিন সেখান থেকে আবার আমাদের যাত্রা শুরু হয়।
  • ২য় দিন আমাদের জন্য হয় অনেক অন্যরকম হয় কারন ভাংগার কিছু পর থেকে প্রায় ৫/১০ কিমি পথ থাকে একদম ফাকা যা আমাদের মত শহুরে ছেলেদের জন্য হয় অমৃত স্বরুপ। রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় থামার কারনে বিভিন্ন লোকের সাথে কথা হয়। তারা আমাদের পাগলামি শুনে অনেক অবাক হয় এবং তাদের বদৌলতে আমরা কোনো জায়গায় যাওয়ার আগেই আমাদের খবর সেখানে পৌছে যায়। উদাহরণ স্বরুপ টেকেরহাট এ পৌছানোর আগে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব হতে আমাদের কিছু লোক ডাক দেয়। আমরা ভয়ে ভয়ে এগলে তারা জিজ্ঞাস করে শুনলাম আপনারা নাকি হেটে হেটে বরিশাল যাবেন। আমরা কোনোমতে উত্তর দিয়েই ওইস্থান থেকে দৌড়। কারণ আমরা আগে এইরকম কোনো কিছুর সামনে পরিনি। দিন শেষে আমরা মোস্তফাপুর এসে পৌছাই। কিন্তু থাকার জায়গার অনিরাপদের কারণে আমরা অটোতে করে মাদারীপুর গিয়ে রাত কাটাই এবং পরদিন আবার মোস্তফাপুর এসে যাত্রা শুরু করি। ( বলে রাখা ভাল আগের দিনের ক্লান্তির কারনে আমরা মাত্র ৩৮ কিমি পারি দেই)
  •  
  • ৩য় দিন :- 
  •  
  • সকাল ৪ টায় বাজে উঠে আমরা ৪:৩০ এর মধ্যে আমরা আবার  আমাদের যাত্রা শুরু করি। শেষ দিন হওয়ার কারণে আমাদের হাতে সময় ছিল কম কিন্তু পথ ছিল অনেক বেশি। তাই ঘন্টায় প্রায় ৫ কিমি বেগে হেটে  আমরা 
  • প্রায় ৯:৩০ নাগাদ আমরা গৌরনদী পৌছাই। সেখানে সকালের নাস্তা করে আমরা আবার ছুটতে থাকি। কিন্তু এবার ক্লান্তির কারনে আমাদের গতি আগের থেকে কমে যায় এবং আমরা অনেক কম পথ পারি দেই অনেক বেশি সময় নিয়ে। ঘড়ির কাটা যখন ৫:৩০, তখন আমাদের প্রায় ১৪ কিমি পথ বাকি বলেই আমরা সকল ক্লান্তি ও পায়ের ব্যাথা ভুলে গিয়ে ঘন্টায় প্রায় ৭ কিমি ছুটে ঠিক ৭:৩৫ এ নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড এ পৌছাই। আমরা ভেবে ছিলাম যে বরিশাল শহরের বিবির পুকুর নামক স্থানটি হলো বরিশাল  বিভাগের ০ পয়েন্ট।  কিন্তু আমাদের ধারনা ভুল প্রমান করলো গুগল ম্যাপ এবং স্থানীয় লোকজন। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমরা বিভিন্ন ভাবে পরিচিত – অপরিচিত  মানুষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম আমরা ভুল। ফলে আমাদের শেষ গন্তব্য এর স্থান আরো ১২.৫ কিমি বেড়ে যায়। আমদের ওই দিনেই পৌছাতে হবে বলে আমরা আবার প্রায় আগের বেগে ছুটতে থাকি এবং ঘড়ির কাটা অনুযায়ী ঠিক ৯:২৬ এ আমরা ০ পয়েন্ট এ থাকি। ( বলে রাখা ভাল পৌছানোর খুশিতে আমরা ভুলেই যাই যে আমরা প্রায় ১৭ ঘন্টায়  প্রায় ৭৩ কিমি পথ পারি দেই তাও আবার পায়ে হেটে।  আরো বলে রাখা ভাল এই যাত্রায় আমাদের সাথে ছিল প্রায় ২ কেজি গ্লুকোজ এবং ১০ টি পিনাট বার)।
  •  
  • সব কথার মুল কথা হলো এই যে আমরা এই যাত্রায় বুঝেছি ইঞ্জিনের গুরুত্ব।
  • আর আমাদের এই যাত্রা সফল হওয়ার পিছনে যে দুইটি জিনিষ রয়েছে তা হলো আমাদের মনোবল এবং আপনাদের দোয়া। শুধুমাত্র এই দুইটির জন্যই আমরা প্রায় অসম্ভব একটা কাজে সফল হয়েছি।
  • দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে এই রকম আরো ট্যুর দিতে পারি।
  •  ঢাকা টু বরিশাল (পায়ে হেঁটে)
  •  Bangladesh
  •  ঢাকা টু বরিশাল
  •  Others
  •  নিজেকে নিজে প্রমান করার জন্য
  •  গ্লুকোজ, পানি, জুস, চকলেট ইত্যাদি

0 comments

Leave a comment

Login To Comment