Image

Incredible India

#ভ্রমণপথ

 

ভ্রমণ করতে ভিশন ভালোবাসি,নতুন নতুন জায়গার প্রতি আকর্ষন বেশি।

এবারের ভ্রমণ ছিল ইন্ডিয়ার সিক্কিম রাজ্য। যা বেশ কমাস হলো সবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

আমাদের দেশের বেশকিছু ট্রাভেল এজেন্সি বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণ এর আয়োজন করে থাকে,সেটাও সবার জানা।তবে অনেকেই আছেন যারা নিজেরাই ভ্রমণ করতে চান। আমরাও এর ব্যতিক্রম নাহ,তাই আমরা দুজন হুট করেই সুযোগ পেলে দৌর দেই।

ভ্রমণকাল ৩১  মে থেকে ৪জুন, ছুটিছাটার ঝামেলার কারনে ঈদের আগের কদিনের ছুটিকে কাজে লাগালাম। 😉 😉 

আমার শ্বশুরবাড়ি সৈয়দপুর,রংপুর,তাই ভ্রমণ শুরু করেছিলাম সেখান থেকেই।

৩১  তারিখ ভোর ৭টায় লোকাল বাস এ করে যাত্রা শুরু করলাম। সরাসরি ঢাকা  থেকেও বাস ছাড়ে। 🙂 

দুপুর ১২টায় আমরা  বাংলাবান্ধা বর্ডার এর কাজ শেষ করে ইন্ডিয়ায় ঢুকি, বর্ডার এর বাইরে অটো পাওয়া যাবে,ফুলবারি পর্যন্ত,৫-১০ রুপি জনপ্রতি। ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুরি স্ট্যান্ড অটো/ ৮ সিটার মাহেন্দ্র পাওয়া যায়,জনপ্রতি ২০ রুপি খরচ পরবে। এছাড়া কেউ চাইলে রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন, খরচ বেশি পরবে। 😉 

বাংলাবান্ধা থেকে শিলিগুড়িরর দুরত্ব ২০ মিনিট এর,আমাদের প্রথম জার্নি টা একটু রাফ হবার কারনে ২ জন একটা ট্যাক্সি রিজার্ভ করে সরাসরি গ্যাংটক এর জন্য,মাঝে রংপো চেকপোস্ট এ ইনার লাইন পারমিশন নিতে হয়। ভির না থাকায় ১০ মিনিট এ কাজ হয়ে যায়। প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌছে গেছি সিক্কিম এর রাজধানী গ্যাংটক এ,তখন সন্ধ্যা ৭:৩০। এম-জি মার্গ এবং আসেপাশে অনেক হোটেল আছে, ইন্ডিয়াতে SUMMER এর ছুটি থাকার কারনে প্রচুর ভীর ছিলো, অন্য সময়ে গেলে ১০০০-১৫০০রুপী তে ভালো রুম পাওয়া যায়। 

বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ কিছু টিপস্,

১,যাবার আগেই ১৫ কপি করে ভিসার ফটোকপি, পাসপোর্ট এর ফটোকপি এবং ছবি ২০ কপি নিয়ে যাবেন।

২,ট্রাভেল ট্যাক্স ঢাকা থেকেই দিয়ে যাওয়া ভালো। সোনালি ব্যাংক মতিঝিল ছাড়া নিউ মার্কেট শাখাতেও দেয়া যায়। ৫০০ টাকা।

৩, গ্যাংটক পৌছাতেই অনেক ট্রাভেল এজেন্সির অফিস চোখে পরবে,আগে গিয়ে খোজ নিবেন কোন কোন যায়গা দেখার পারমিশন দিচ্ছে। কারন পারমিশন টা ওখানকার আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে।

৪, সিক্কিম ভ্রমণে অবশ্যই কমপক্ষে ৬জন যাবেন,তাহলে খরচ টা শেয়ারিং এ কম পরবে।

৫, সিক্কিম অনেক গোছানো শহর,এবং তাদের নিজস্ব কিছু নিয়ম আছে,সেগুলো মানতে হয়।

৬, নর্থ সিক্কিম পুরাটাই বর্ডার,মিলিটারি এরিয়া,তাই যতটা সম্ভব সংযত  থাকার চেষ্টা করবেন।

৭, মিলিটারি এরিয়াতে কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করবেন নাহ। ঝামেলা হবে।

৮,নর্থ সিক্কিম প্রায় সারা বছর ই শীত তাই গরম কাপড় সাথে রাখবেন।

(বিঃদ্রঃ এপ্রিল-মে এবং জুন এর মাঝামাঝি SUMMER,প্রচুর টুরিস্ট থাকে, জুন ১৫ থেকে সেপ্টেম্বর  বর্ষাকাল, এই সময়ে নর্থ সিককিম পুরোপুরি বন্ধ থাকে।)

 

প্রথমদিন, ১জুন, আমরা কোন বাংলাদেশী না পাবার কারনে কিনচিৎ ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল, তাই সময় নষ্ট না করে সকালে লোকাল ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সাইট সিইন এ বের হই। দারুণ সব যায়গা। আর সামার এর জন্য অসংখ্য ফুলের দেখা মিলেছিল। আহ্, এক কথায় অসাধারন।  এর ভেতর,

২টা বিক্ষাত মনেস্ট্রি, তাশি ভিউ পয়েন্ট, রোপ ওয়ে (ক্যাবলকার), মন্দির, ঝর্ণা, আর অসাধারণ সব ফুলের সমারোহ সহ মোট ১০টা প্রধান স্থান দেখে সন্ধ্যায় হোটেল এ আসি।

২ জন হবার কারনে কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম, বাংলাদেশী অন্য কোন গ্রুপ পাচ্ছিলাম নাহ। ঘন্টাখানেক ঘোরাঘুরি করে ১টা কাপল পেয়ে গেলাম,এক এজেন্সির সাহায্যে। তারাও আমাদের মত গ্রুপ এর সন্ধানে ছিল। 😉 

২জুন,এর জন্য আমরা ২ কাপল মিলে লাচুং যাবার জন্য প্রস্তুত হলাম,

এম-জি মার্গ এর ঠিক নিচের রোড এই SUNFLOWER TOURS & TRAVELS  আছে,ওখানে বাংলাদেশীদের ভালো হেল্প করা হয়।

৪জন এর জন্য মোট ১৭ হাজার রুপী তে লাচুং ভ্রমণ এর পারমিশন সহ সব ঠিক হয়।

বলে রাখা ভালো লাচুং যাবেন আর জিরো তে যাবেন নাহ? তাহলে তো পুরাটাই মিস। জিরো তে যেতে আলাদা পারমিশন নিতে হয় লাচুং থেকে। সেটার জন্য আলাদা ফি দিতে হয়,অনেকটাই ড্রাইভার এর উপর দাম নির্ভর করে।

 লাচুং যাবার পথটা নিজে না দেখলে শুধু বলে বোঝানো যাবেনা, কখনো মেঘ ছুয়ে দেবে,কখনো পাহাড়ি ঝর্না গাড়ির উপর পরবে বৃষ্টির মতন। এছাড়াও ৫থেকে ৬ টা স্পট ড্রাইভার যাবার সময় দেখিয়ে নিয়ে যায়, সব গুলোর নাম ও মনে নাই, ;)।  আমরা যখন লাচুং এ হোটেল এ পৌছালাম তখন সময় ৬:৪০.

Sunflower  এর নিজস্ব হোটেল, একদম শেষ সীমানায়। অসাধারণ ভিউ,চারপাশে পাহাড়, পাহাড়ের চূড়া তে বরফঢাকা।আহ কি শান্তি। 🙂

এই ভ্রমণে সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার,সন্ধ্যার চা, পরদিন সকালের নাস্তা (নুডুলস), দুপুরের খাবার,গাড়ি এবং রুম সব কিছুই ১৭ হাজার রুপীতে ছিল।

জিরো না গেলে শুধু ইয়ামথাং ভ্যালি ঘুরিয়ে আবার গ্যাংটক এর জন্য রওনা দেয়া হয়। 

৩জুন, সকালে সরাসরি জিরোতেই আগে গেলাম,বারতি ৩ হাজার  রুপী দিয়ে জিরো পয়েন্ট  দর্শন করেছিলাম। গিয়ে বুঝলাম সত্যিই জিরো না দেখলে অনেক কিছুই বাকি থাকতো। পুরোটা জায়গা জুড়ে সাদা বরফে ঢাকা, জিরো দেখে ফেরার পথে ইয়ামথাং ভ্যালি ঘুরে অসম্ভব সুন্দর কিছু স্মৃতী সাথে নিয়ে আবার রওনা হলাম।

লাচুং এ হোটেল এ এসে দুপুরের খাবার খেয়ে গ্যাংটক এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। রাত ৮ টায় আবার গ্যাংটক এর হোটেল এ চেকইন, এমজি মার্গ এ ঘোরাঘুরি করে,ডিনার করে রুমে।

পরদিন, ৪ জুন  সকালে ট্যাক্সি নিয়ে দেরুলিয়া স্ট্যান্ড, সেখান থেকেই মুলত ইন্টার সিটি গাড়ি,ট্যাক্সি ছাড়ে, জনপ্রতি ৩০০-৪০০ রুপী তে গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি জিপগাড়ি/ শেয়ারিং ট্যাক্সি ছাড়ে, আমরা ২জন শেয়ারিং জিপ এ শিলিগুড়ি পৌছাই। শিলিগুড়ি থেকে অটো নিয়ে সরাসরি বর্ডার এ। বর্ডার এ সব কাজ শেষ করে বের হলেই লোকাল বাস। বাসে করে পঞ্চগড়, পঞ্চগড় থেকে সৈয়দপুর এর বাস।

 সন্ধ্যায় সৈয়দপুর পৌছে পরদিন পরিবারের সাথে ঈদ। 🙂 

 

 [বিঃকথা- বাংলাদেশীদের জন্য শুধু মাএ লাচুং(নর্থ সিক্কিম),সাইট সিইন, আর ছাংগু লেক ভ্রমণের পারমিশন দেয়া হয়]

সবশেষে,নিজের দেশকে ভালোবাসুন, অন্যের দেশকে অন্যের ধর্মকে সন্মান করুন, পৃথিবীর যেখানেই ভ্রমণ করেন,পরিছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন।

সবার ভ্রমণ সুন্দর হোক। 🙂

  •  Amazing Sikkim
  •  India
  •  Gangtok & North Sikkim
  •  Bus
  •  Hotel Sunflower
  •  Momo's

0 comments

Leave a comment

Login To Comment