Image

জাফলং-এ একদিন

রমজান মাসেই ইয়ার চেঞ্জ পরীক্ষা শেষ। তারপর মুক্ত স্বাধীন। কোথাও যেতে নেই কোনো মানা। তাই ঠিক হলো ইদ পরে বেড়াতে যাবো বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান জাফলংয়ে।

 

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি পর্যটনস্থল জাফলং। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।

 

অবশেষে চলে এলো ভ্রমণের দিনটি। ৭ জুন সকাল ৮ টার সময় বাড়ি থেকে রওয়ানা দিলাম। বাসে উঠে হাল্কা নাস্তা খেলাম। তার শুরু হলো গন্তব্যের দিকে চলা। কিন্তু প্রথমেই মন খারাপ হলো কারণ বাসে মাইক আনা হয়নি। তাতে কি? একটু পরেই নিজেরাই গান গাইতে শুরু করলাম, শিল্পীর তো অভাব নেই! যাইহোক মাইকের মাধ্যমে শব্দ দূষণ করে অন্যের ক্ষতি করছি না বলে মনকে শান্তনা দিলাম। তারপর ইমন ভাই শুরু করলেন চাপাবাজির প্রতিযোগিতা। অনেক মজা লাগলো। এরপর শুরু হলো ভুতের গল্প। এগুলোও শুনতে ভালো লাগলো কিন্তু রাতের বেলা হলে ভয় পেতাম। 

 

প্রায় বারোটা চল্লিশ মিনিটের সময় আমরা পৌছে গেলাম গন্তব্যস্থলে।প্রথমে সাথে করে আনা খাবার খেয়ে নিলাম। তারপর সবাই একই রকম টি শার্ট পরে ঘুরতে শুরু করলাম। জাফলং যে এতো সুন্দর স্থান তা না গেলে বুঝতাম ই না। আমার মনে হয়েছিল যে এরকম সুন্দর স্থান আগে কখনো দেখিনি। সারি সারি পাহাড় আর তার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা নদীর স্বচ্ছ নীল পানি যে কারোর মন কেড়ে নিতে পারে মুহূর্তেই।

 

চারদিক ঘুরে ফিরে দেখলাম। মোবাইল দিয়ে অনেক ছবিও তুললাম। সেখানে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো। নাম আবিদ; আমার নামের সাথে মিল রয়েছে। সে আমার অনেক ছবি তুলে দিলো। ছেলেটা দারুণ গানও গাইতে পারে। তারপর শুরু হলো সবাইকে নিয়ে খেলাধুলা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। খুব উপভোগ করলাম এবং সবচেয়ে মজা লেগেছিল যখন হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলাম। এরপর আমরা নৌকা এবং লঞ্চে করে জিরো পয়েন্টের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম। যদিও সেখানে হেটে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু জাফলংয়ে এসে নৌ ভ্রমণ না করলে কি হয়?

 

প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম সীমান্তবর্তী এলাকা জিরো পয়েন্টে। এই স্থানটাই মনে হয়েছিল জাফলংয়ের সবচেয়ে সুন্দর স্থান। ওপাশেই ভারত, সেখানেও দর্শনার্থীদের ভীড়।

জাফলং-এর বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়ালে ভারত সীমান্ত-অভ্যন্তরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়শ্রেণী দেখা যায়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরণা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতুও আকর্ষণ করে অনেককে। সর্পিলাকারে বয়ে চলা ডাওকি নদীও টানে পর্যটকদের। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জলরাশি আর তার দু’ধারের সবুজ পাহাড় মিলে তৈরি হয়েছে যেন সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। ঠান্ডা পানিতে দাপাদাপি আর সাতার কেটে দূর করলাম সারাদিনের ক্লান্তি। ছবিও তুললাম অনেক। কিন্তু ইতিমধ্যে সূর্যটা জানান দিলো সন্ধ্যার আর বেশি সময় বাকি নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই পানি থেকে উঠতে লাগলাম। আসার সময় কিছু পাথর ব্যাগে নিলাম, বাড়িতে সবাইকে দেখাবো বলে। জাফলংয়ে ভারতীয় পণ্যের অনেক দোকান রয়েছে। সেখান থেকে অনেক চকলেট কিনলাম। প্রতিটি জিনিসের দাম দ্বিগুণের মতো। তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল। সূর্যটা আস্তে আস্তে পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে গেল। পাহাড়ি এলাকায় এটাই ছিল আমার প্রথম সূর্যাস্ত দেখা। এমন অনিন্দ্য সুন্দর স্থান হতে একটু পরেই বিদায় নেবো ভেবে মনটা কেমন যেনো হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছে হলো যদি এরকম একটা স্থানে রোজ আসতে পারতাম। যদি জাফলংয়ের কোনো এক পাহাড়ের কোলঘেষে আমার বাড়ি হতো? কিন্তু কল্পনা তো কল্পনাই রয়ে যায়।

 

একটু পরেই আবার নিজেদের আপন ঠিকানার উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলাম। পথিমধ্যে বাস থামিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। রাত প্রায় বারোটার সময় বাড়িতে ফিরে এলাম। এসেই ফ্রেশ হয়ে দিলাম এক ঘুম। ভাগ্যিস ভুতের গল্পগুলো মনে পড়েনি!

  •  জাফলং ভ্রমণ
  •  Bangladesh
  •  জাফলং, সিলেট
  •  Bus
  •  একদিনের ভ্রমণ হওয়ায় কোথাও রাতে থাকতে হয়নি।
  •  সকালের জন্য নাস্তা ও দুপুরের জন্য খাবার।
  •  সবার জন্য একই রকম টি-শার্ট।

0 comments

Leave a comment

Login To Comment