Image

ভূস্বর্গ রাঙামাটি

আমার আর সাকিলের বান্দরবন ভ্রমণের অনেকদিন পর দেখা 

আমাদের মধ্যকার কথোপকথন…….. 

 

সাকিল-ঃ আচ্ছা দোস্ত শুনলাম রাঙামাটিতে নাকি একটা রিসোর্ট খুলছে খুব সুন্দর ।  

 

আমি-ঃ ধুর এইসবে কান দিতে নাই, বলে একটা আর গিয়ে পাই আরেকটা

 

সাকিল-ঃ আচ্ছা ট্রাই তো দিতে পারি, না । 

 

আমি-ঃ তবে আর দুই তিন জন হলে ভালো হয়। যদি মজা পায় সবাই পাবো নইলে সবাই একসাথেই ডুববো

 

সাকিল-ঃ তবে ডুবার প্রস্তুতিটা নেয়া যাক… 

 

একে একে সায়েম, ধ্রুবো, মুরাদ, সাকিব কে কল দেওয়া হলো । সবাই রাজি শুধু সায়েম মহাশয় ছাড়া। যাক তাকে ছাড়াই যাত্রাটা শুরু করব।

 

আসলে একটা কথা -তো বলাই হয় না ।  আমরা চট্টগ্রামে থাকি । এইদিক থেকে সুবিধায় আছি । শুধুমাত্র ১০০ টা টাকার বিনিময়ে রাঙামাটি আসা হয়ে যায় আমাদের । এখন আসি আসল ঘটনায় ।  রওনা দিলাম অরণ্যক রিসোর্টের দিকে ।  তবে এই কি শুনছি এর নাকি মেরামত কাজ চলছে। হায় যার জন্য ঘর বানাইলাম সে রইলনা ঘরে।  কি আর করার ঝুলন্ত ব্রিজ তো আছেই ওইখানে একটু-আধটু ঘুরে ভ্রমণটার ইতি টানা যাক । ব্রিজ এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলা।অবাক করা বিষয় ছিল ব্রিজ টা পেরোতেই একটা গ্রাম যার সাথে বয়ে চলছিল সেই স্বচ্ছ হ্রদটি। তখন ভাবছিলাম – আহা! মানুষ যদি সভ্য হতো তবে হয়তো আমাদের নদীমাতৃক দেশের এই অবস্হা হতো নাহ।  যাক গ্রাম টা ঘুরবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। অনেক ছোট খাটো গ্রাম তাই তেমন একটা সময় লাগে নাই। ইতিমধ্যেই একজনের আবদার এতো স্বচ্ছ একটা হ্রদ তা কি ঘুরে দেখা যায় না । আমি জবাবে বললাম হ্যা তা তো ঠিক। আর এর জন্যে আমাদের ৫ জনকে ঘুনতে হলো ৬০০ টাকা ।  হ্যা অবশ্যই সেই সৌন্দর্যের কাছে  ৬০০ টাকা ছিল নামমাত্র। ওহ হ্যা হ্রদটির এককোনে এসে যখন নৌকা থামালো পা রাখতেই দেখা মিলে আমলকির অরন্যের এইখানে বেশকিছুক্ষন সময় কাটানো হয় মানে ফটোশেসন বলা যায় । 

 

সময় ঠিক ৩.৩০ টা সঠিক মনে নাই। হঠাৎ একটা ফোন আসে ধ্রুবোর মোবাইলে । 

 

ধ্রুবো-ঃ জ্বি বলেন। 

 

অজ্ঞাত ব্যক্তি-ঃ জ্বি আপনার নাম্বার টা দিয়ে গিয়েছিলেন না ভাই, অরণ্যক রিসোর্টের মেরামতের কাজটা শেষ হয়েছে আপনারা স্বাগতম

 

ধ্রুবো-ঃ ভাই স্পিকারে করি, আরেকবার বলেন ভাই । 

 

অজ্ঞাত ব্যক্তি-ঃ জ্বি ভাই অরণ্যক রিসোর্ট খোলা। 

 

এই কথা শুনে আমাদের আর থামাই কে এতোক্ষনে তো আমরা সাত আসমানে। আসলে এইখানে যাওয়া না হলে ষোলকলায় পূর্ণ হতাম না। তাড়াহুড়ো করে রওনা দিলাম অরণ্যকের উদ্দেশ্যে। এইতো এসে গেলাম।  শান্তি। 

 

ধ্রুবো-ঃ এই নদী দেখচছ এইটা পার হয়লেই কিন্তু রিসোর্ট

 

আমি-ঃ তবে আরো কিছু পথ পাড়ি দেওয়া লাগবে

 

ধ্রুবো-ঃহ্যা। বোটে করে যেতে হবে। খোঁজ নিলাম জনপ্রতি ২০০ টাকা করে (প্রবেশ ফি সহ)। 

 

আমি-ঃ আচ্ছা তুই আর সাকিল যা সবার জন্য টিকিট নিয়ে আই 

 

কিছুক্ষনপর….

 

সাকিল-ঃ এই নে সবার টিকিট হাতে রাখ 

 

আমি-ঃ আহ!  পেয়ে গেলাম আলাদিনের চিরাগ আমাকে টেকায় কে৷ 

 

যাক সবশেষে বোট জার্নি করে চলে এলাম অরণ্যকে। উরাধুরা মজা করলাম ওইখানে, যদিও সুইমিংপুলের স্বাদ সেই অনেক আগে থেকে নেওয়া তারপরেও হয়তো খুবই এক্সাইটেড ছিলাম তাই। 

 

এসে গেল সেই সময়।  বাড়িতো যেতে হবে। তখন সময় ছিল সন্ধ্যা ঠিক ৬.১৭ মিনিট। ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আর অনেকগুলো স্মৃতি  নিয়ে ফিরছিলাম ।  তখন যেন রাঙামাটি রবীন্দ্রনাথ হয়ে আমাকে বলছিল – যেতে নাহি দিতে চাই,  তবু যেতে দিতে হয়। যাত্রাপথেহ্রদেবাস থেকে নেমেঅরণ্যক রিসোর্টঝুলন্ত ব্রিজ

  •  রাঙামাটি ভ্রমণ
  •  Bangladesh
  •  রাঙামাটি
  •  Bus
  •  থাকার প্রয়োজন হয় নি। সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ করছিলাম
  •  ব্যাম্বো বিরিয়ানি

0 comments

Leave a comment

Login To Comment