Image

যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একই রঙে রাঙানো

যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একই রঙে রাঙানো

বিস্তৃীর্ণ নীল জলরাশি, নেই কোন সীমানা। দিগন্ত আর সমুদ্র কোথায় গিয়ে মিশেছে, তাও নেই কারো জানা। এমনই এক নিস্বর্গের নাম সেন্টমার্টিন। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এ দ্বীপটি থেকে সমুদ্র পুরোটাই নীল দেখা যায়। জলে পা রাখলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো জলজ প্রাণী।  ওরা লুকোচুরি খেলবে আপনার সাথে।

ঢাকা থেকে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন। ঢাকা থেকে বাসে টেকনাফ যেতে হলেও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের যাত্রাটা নয়নাভিরাম। টেকনাফের দমদমিয়া থেকে সকালেই ছেড়ে যায় কয়েকটি জাহাজ। জাহাজ নাফ নদীর বুক চিড়ে বয়ে যায়। পেছনে উড়ে সফরসঙ্গী হয় অসংখ্য গাঙচিল। জাহাজ থেকে পর্যটকদের দেয়া বিস্কিট আর চিপস খেয়েই পেটপুজো করে গাঙচিলগুলো। নাফ নদীর মাঝ দিয়ে বয়ে চলা জাহাজের একপাশে মিয়ানমারের উচু উচু পাহাড়, অন্যদিকে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ। দুপাশের চোখ জুড়ানো দৃশ্য অবলোকনের মাঝেই জাহাজ চলে যায় সমুদ্রে।

ঢেউয়ের ওঠানামায় এগিয়ে চলে জাহাজ। একটু এগোলেই নীল জলরাশি ডাকে হাতছানি দিয়ে। আরেকটু এগোলেই দূর থেকে স্বাগত জানায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। জাহাজ যতোই এগোতে থাকে, পানি ততোই স্বচ্ছ নীল বর্ণ ধারণ করতে থাকে। জাহাজ থেকে নেমে হোটেলে কোনমতে লাগেজ রেখেই বেরিয়ে পড়তে হয় সী বিচে। রোদ-ঝড় কিংবা শীত, সমুদ্র হাতছানি দিয়ে ডাকে সবসময়। নারকেল গাছের আধিক্যের কারণে এ দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়।

দ্বীপের চারপাশে যতোদূর চোখ যায়, শুধু নীল। সেই নীলের দিকে তাকিয়ে বোধ হয় পার করে দেয়া যায় এক জীবন। মাঝে এই ছোট্ট দ্বীপ। ঠিক সামনে হুমায়ুন আহমেদের দেয়া নামে পরিচিত দারুচিনি দ্বীপ। আরেক পাশে প্রবালে ভরা ছেড়াদ্বীপ। দ্বীপটি সেন্টমার্টিনের মূল অংশ থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন। তাই এ দ্বীপকে ছেড়াদ্বীপ বলা হয়। জোয়ারের সময় ছেড়াদ্বীপে যাওয়ার পথটা হাটু পানিতে ডুবে থাকলেও ভাটার সময় পানি সরে দেখা দেয় পাথুরে পথ। এ পথে হেটে কিছুদূর যেতেই চোখে পড়বে নয়নাভিরাম সব দৃশ্য। পায়ে হাঁটা পথে একদিকে ঘন জঙ্গল আর একদিকে কোরাল বিছানো সমুদ্র সৈকত। নীলের বিস্তৃতি আর স্বচ্ছতা ছেড়া দ্বীপে আরো চোখ জুড়ানো। জলে পা ফেলতেই টের পাবেন পায়ে ঘেষা ছোট্ট মাছটি দৌড়ে পাথরের আড়াল হলো।

এ দ্বীপে কোন জনবসতি নেই। প্রবালের ওপর দিয়ে হেঁটেই উপভোগ করতে হবে নয়নাভিরাম এই দ্বীপের সৌন্দর্য্য। তবে সে নি:সর্গে হারিয়ে গেলে চলবে না। সকালে রওনা হয়ে বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসতে হবে সেন্টমার্টিন। সুর্যোদয়, সুর্যাস্ত কিংবা পূর্ণিমা, সবটাই যেন প্রকৃতি ঢেলে দিয়েছে সেন্টমার্টিনে। অপূর্ব সেই মুহূর্তগুলো আপনাকে আলিঙ্গন করবে কতো না সাবলীল হয়ে। পূর্ণিমায় তো সারারাতই কাটিয়ে দেয়া যাবে সমুদ্র সৈকতে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে।

সেন্টমার্টিন যাবেন অথচ সামুদ্রিক মাছ দিয়ে উদরপূর্তি করবেন না, এটা হতেই পারে না। সুরমা, ব্লাক চান্দা, গোল্ড চান্দা, রূপচান্দা, ফ্লাইং ফিশ,  সুন্দরী, কোরাল, লবস্টারসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ এই প্রবাল দ্বীপে পাওয়া যায়। প্রবাল এ দ্বীপে নীলের মাঝে ডুবে কখন যে সময় চলে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি বাংলাদেশের এ প্রবাল দ্বীপের প্রকৃতি দেখে শিহরিত হয়ে উঠবেন আপনিও। প্র

  •  A trip to Saint Martin
  •  Bangladesh
  •  Saint Martin
  •  RUCHI BEAUTIGRAM SAINT MARTIN
     RUCHI BEAUTIGRAM SAINT MARTIN
     সেন্টমার্টিন: নীল নিসর্গ যেখানে
     নীল নিসর্গের হাতছানি ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। যেখানে যতদূর চোখ যায় শুধু নীলাভ আর সবুজ রংয়ে রাঙানো চারিদিক।
  •  Bus
  •  সমুদ্র কুটির
  •  সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার

0 comments

Leave a comment

Login To Comment