Image

যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে

এই যান্ত্রিক শহরে রোজকার ব্যস্ততার ভিড়ে আটকে গিয়েছে জীবনটা। চারদিকে ইট পাথরের অট্টালিকা। সবুজের দেখা মেলা ভার। রোজ ক্লাস করিবাসায় ফিরি আর আনমনে ভাবি  বহুদিন ফ্রেশ অক্সিজেন নেওয়া হয়না। হাঁটা হয়না সবুজের বুকে।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এবার  সীতাকুন্ড ইকোপার্কের সুপ্তধরা  সহস্রধারা ঝর্ণা দেখতে যাবো।

 

 

নির্ধারিত দিনে সব বন্ধুরা ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাত  টার মধ্যে হাজির হলাম কমলাপুর রেল স্টেশনে।রাত ১০ টা নাগাদ প্লাটফর্ম  এসে হাজির হল ট্রেন।

 

ট্রেনের প্রতিটি বগি কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা আরম্ভ করল চট্টগ্রাম মেইল। ঢাকার বিভিন্ন স্টেশনে কিছু সময় বিরতি দিয়ে ট্রেনটি ছুটে চলল চট্টগ্রামের দিকে। রাতের আকাশে জ্বলজ্বল করছে চাঁদ মামা। রূপালি আলোয় আলোকিত চারপাশ।রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঝকঝকা শব্দ তুলে ছুটে চলছে ট্রেনটি। ট্রেনের জানালা দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসেরদল ছুঁয়ে দিচ্ছিলো আমাদের সকলকে।

 

কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের  পাইনি। বন্ধুদের ডাকে উঠে দেখি ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দাঁড়ানো। ঝটপট ব্যাগপত্র নিয়ে নেমে পড়লাম ষ্টেশনে। সকালের মিষ্টি রোদ স্বাগত জানাচ্ছিল আমাদের।  ষ্টেশনের পাশেই ফ্রেশ হয়ে নাস্তাটা সেরে নিলাম।

সীতাকুণ্ড রেল স্টেশন। ©লেখক।

 

রেল স্টেশন থেকে কিছুটা সময় হাঁটলেই সীতাকুণ্ড বাজার পাওয়া যায়। আমরা বাজারে গিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লেগুনার সাথে দরদাম করে লেগুনায় উঠে যাই। অল্প কিছু সময় পরেই আমরা পৌছে যাই পার্কে। পার্কে ঢুকতেই বহু নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাই আমরা। সবুজে ছায়াঘেরা পিচঢালা পথ চলে গিয়েছে সামনের দিকে। কিছুটা এগোতেই চোখে পড়ল ম্যাপ। সেখানে দুরত্ব সহ সুপ্তধারা সহস্রধারা ঝর্ণার পথ দেখানো আছে।

প্রকৃতির বুকে হেটে চলা। ©সাইফি

 

রাস্তার দু পাশে ছোট বড় নাম না জানা বৃক্ষেরা ছায়াদিয়ে রেখেছে পিচঢালা পথটিকে।পার্কের

 রাস্তাথেকে সুপ্তধারায় যেতে হলে বা দিকে অনেকগুলো সিঁড়িপথ অতিক্রম করে নিচে নেমে যেতে হয়।যত্নহীন পরে থাকার কারণে বেশিরভাগ সিঁড়িই শ্যাওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে থাকে।তাই বেশ সতর্কতার সাথে পা ফেলে এগিয়ে চললাম নিচের দিকে।কিছুটা  নিচে যেতেই পেয়ে গেলাম ঝিড়িপথ।

ঝিড়িপথ।©আনামুল।

 

ঝর্ণার পানিগুলোই ঝিরিপথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।চারিদিকে নাম না জানা পাখি  পোকামাকড়ের ডাক। আর সেই সাথে যুক্ত হয়েছে ঝিরিপথের পানিতে আমাদের পা ফেলে এগিয়ে যাওয়ার থপ থপ শব্দ।ঝিরিপথ জুরে এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানান সাইজের পাথর। পাথরগুলোকে মনে হচ্ছিল এই স্বচ্ছ শীতল পানিপথের প্রাকৃতিক পাহাড়াদার। যারা বছরের পর বছর পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।ঝিরিপথ দিয়ে কিছুদুর এগোতেই শুনতে পেলাম ঝর্ণার শব্দ।এ এক অন্যরকম শব্দ। মন মাতানো শব্দ। যেই শব্দে কোনও বিরক্তি আসেনা।এ শব্দে দূর হয়ে যায় সকল ক্লান্তিরা।

 

দূর থেকে সুপ্তধারা ঝর্ণা। ©লেখক

 

আকাশে মেঘ জমেছে বেশ। যান্ত্রিক জীবন থেকে বেশ দূরে সবুজে ঘেরা প্রকৃতির বুকে পাহাড়ের কান্নায় ভিজছি আমরা।  এক অন্যরকম প্রশান্তি।এ এক অন্যরকম আনন্দের শীতল ছোঁয়া।বেশ অনেকক্ষণ ঝর্ণার পানিতে নিজেদের  সকল ক্লান্তিদের দূর করে রওনা হলাম ২য় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যতটা সহজে সিঁড়িপথ গুলো দিয়ে নেমেছিলাম উঠে আসতে ততটাই কষ্ট হল। উপরে এসে আমরা আবার  পিচঢালা পথধরে সামনে এগোতে শুরু করলাম।

 

সুপ্তধারা ঝর্ণায় আমরা। ©আনামুল

 

 আমরা অনেকক্ষণ হেঁটে চলার পর পেয়ে গেলাম সহস্রধারা ঝর্ণার সাইনবোর্ড।  এই ঝর্ণার কাছে যেতে হলে সিঁড়িদিয়ে নামতে হবে রাস্তা থেকে অনেক নিচে তাহলেই দেখা মিলবে এই পাহাড়ী সুন্দরীর। তবে সুপ্তধারা ঝর্ণার সিঁড়িগুলো পিচ্ছিল হলেও সহস্রধারা ঝর্ণার সিঁড়িপথটা পিচ্ছিল ছিলনা।সিঁড়িপথ দিয়ে নিচে নামা মাত্রই দেখতে পেলাম সহস্রধারা ঝর্ণা।এই ঝর্ণাটি সুপ্তধারার চেয়েও বেশি উঁচু। তাই কালক্ষেপণ না করেই এক দৌড়ে লাফিয়ে পড়লাম ঝর্ণার শীতল পানিতে। শুরু হল ইচ্ছেমত শীতল পানিতে আমাদের দাপাদাপি। মনে হচ্ছিল খাঁচার পাখিরা আজ পেয়েছে মুক্তির স্বাদ।

সহস্রধারা ঝর্ণা। ©লেখক

 

 

 

আনন্দের সময়েরা  খুব দ্রুত চলে যায়।আর আমাদের সময়টাও কোনদিক দিয়ে ফুরিয়ে গেল টের  পেলাম না কেউ ই। ঝর্ণা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে এলাম হাইওয়েতে। হাইওয়ের পাশেই এক হোটেলে সবাই মিলে দুপুরের খাবারটা সেরে নিলাম। লাঞ্চ শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যের বাসে রওনা হলাম চিরচেনা যান্ত্রিক শহরের দিকে।ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে ধরে বাস ছুটছে ঢাকার দিকে। আমরাও ছুটছি প্রত্যাহিক জীবনের গল্পে মিশে যেতে মস্তিষ্কে একগাদা মজার স্মৃতি নিয়ে….!

 

রাত ১০ টায় সুন্দর একটি অসাধারণ  ভ্রমণ শেষে আমরা পৌঁছে গেলাম চিরচেনা এই নগরী তে।

  •  যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে
  •  Bangladesh
  •  যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে
  •  যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে
     যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে
     যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে প্রকৃতির খোঁজে
     চারিদিকে নাম না জানা পাখি ও পোকামাকড়ের ডাক। আর সেই সাথে যুক্ত হয়েছে ঝিরিপথের পানিতে আমাদের পা ফেলে এগিয়ে যাওয়ার থপ থপ শব্দ।ঝিরিপথ জুরে এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানান সাইজের পাথর। পাথরগুলোকে মনে হচ্ছিল এই স্বচ্ছ শীতল পানিপথের প্রাকৃতিক পাহাড়াদার।
  •  Train
  •  n\a
  •  rice and fish

0 comments

Leave a comment

Login To Comment