Image

গ্রেট ট্রাভেল

২৪ এ পোষ ২০১৩  রোজ সোমবার আমি তখন ক্লাস নাইন এর ছাত্র।আমাদের গ্রাম থেকে প্রতিবছর তরুণ সংঘ এর উদ্যোগে বাংলাদেশ এর বিভিন্ন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যেত প্রতি বছরের ন্যায় এবার আমাদের তরুণ সংঘ এর তৎকালীন প্রধান সহ তরুণ সংঘের সকল কমিটি মিলে ঠিক করল তারা এবার কুয়াকাটা যাবে।যথারীতি তাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ সম্পন্ন করার জন্য ভ্রমণের নির্দিষ্ট দিনের থেকে 15 দিন আগে প্রচার শুরু করল এবছর তারা নিয়ে যাবে 60 থেকে 70 জনের মতো ভ্রমণ পিপাসু।ভ্রমণের জন্য চাঁদা ঠিক করা হল 600 টাকা এবং এই চাঁদা তোলার জন্য তরুণ সংঘ এর পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট কমিটি গঠন করা পিয়াসু কমিটির প্রধান ভাষা হল আমাদের গ্রামের আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ছাড়াও আরো 3 থেকে 4 জন তখন তরুণ সংঘের সকল সদস্য বিশেষ করে তরুণ সংঘ সাথে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তারা আমাদের গ্রামের আমাদের বড় ভাই তার আবার মুদি দোকান ছিল ওই দোকানে বেশি ওঠাবসা করা হতো আমরা যথারীতি ওই দোকানদারকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তরুণ সংঘ এর পক্ষ থেকে। যারা যেতে ইচ্ছুক কুয়াকাটাতে সময় মত সবাই তাদের চাঁদা দিতে আসতো ওই মুদি দোকানে।আমি স্কুলের অবসরে প্রায় অবসর টাইমটা খেলাধুলা না করলে ওখানে বসে থাকতাম আড্ডা দিতাম আমি না আমাদের যারা একসাথে বন্ধুবান্ধব ছিল সবাই মিলে আমরা ওখানে বসতাম।  যে যার স্টাইল টাকা দিতে লাগলো কেউ ফুল টাকা দিয়ে দিচ্ছে কেউ দিবে বলে সময় নিচ্ছে,কেউ কিছু টাকা দিয়ে তাঁর নাম টা খাতায় এন্ট্রি করাচ্ছে। এভাবে করতে করতে আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমণে দিন চলে আসলো টাকা তোলা রেডি তরুণ সংঘ ইতোমধ্যে কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য বাস ঠিক করে ফেলেছে।আমরা যে বাসে কুয়াকাটে তে গেছিলাম তাঁর নাম ছিল বিশ্বাস ট্রাভেল।আমাদের এই আমাদের এই ভ্রমণে আমাদের গ্রামের প্রায় সকল পেশার লোক অংশগ্রহণ করেছিল এটা ছিল আমার-প্রথম কুয়াকাটা ভ্রমণ আমি এর আগে কখনো কুয়াকাটা যায়নি তার জন্য আমার ভিতর একটা নিজস্ব উত্তেজনা বিরাজ করছিল আমাদের বাসা থেকে আমি আর আমার বড় ভাই গেছিলাম ওই দ্রমনে।বাস ছাড়ার সময় দেয়া হয়েছিল দুপুর ২ টায়।তো সবার গোছেতে ও আসতে একটু দেরি হওয়া তে বাস ছাড়ল বাস ছাড়লো নির্দিষ্ট সময় হতে দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার সাড়ে তিনটার দিকে ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে একটা বিশাল হরেন দিয়ে  বাস কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো।আমরা সবাই যে যার সিটে বসে আমাদের যাত্রা উপভোগ করতে লাগলাম।আমার সিট টা ছিল সি-২ তে আর আমার পাসে বসা ছিল আমাদের হানিফ ভাই,ঐ যে মুদি দোকানদার।তো যথারীতি বাস চলতে চলতে আমাদের জেলা অতিক্রম করল,রাত তখন প্রায় ২ টা বাজে।বাসের সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন।আমি বসে বসে মোবাইল গুতাচ্ছি।আমার পাসে থাকা হানেফ ভাই মাজে মাজে আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে আবার ঘুমাই পড়ছে।ঐ সময় টা শীতকাল থাকাতে আর আমার সিটের পাসে জানালার ছোট্ট একটা ছিদ্র দিয়ে উসফুল  বাতাস আসছিল। আমি ওই বাতাসে যথারীতি শীতে কাঁপতে কাঁপতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানিনা।পরক্ষণে ঘুম যখন ভাঙল আমার বাস কুয়াকাটা খুব কাছাকাছি একটা ফেরি পার হওয়ার জন্য ফেরিতে উঠেছে। তখন কুয়াকাটা যাওয়ার এখন যে ব্রিজগুলা  হয়েছে এই  ব্রিজ গুলো তখন ছিল না। যার জন্য আমাদেরকে প্রায় দুই থেকে তিনটা ফেরি পার হতে হয়েছিল।তো শেষ ফেরি টা পেতে আমাদের একটু দেরি হয়েছিল, আমরা সবাই , সবাই না কিছু লোক বাস থেকে নেমে ছবি ওঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অনেকগুলো ছবি উঠলাম তারপর আমরা ফেরি পেলাম এবং বাসে উঠে পরলাম ফেরি পার হতে হতে রাত তখন বাজে প্রায় পৌনে তিনটা।রাতের সেই ছবি গুলা দেখলে আজো শীতের কাপনি আসে।প্রচণ্ড শীত ছিল ঐদিন। আমরা ভরে কুয়াকাটা তে পৌছালাম। তারপর আমরা কিছু খাবার উদ্দেশ্যে হোটেল খুঁজতে লাগলাম আমাদের সবারই উদ্দেশ্য ছিল সকালের সূর্য উদয় এর  সুন্দর দৃশ্য দেখব। যার জন্য আমরা খাবারে খুব তড়িঘড়ি করেছিলাম।তবে  এখানে একটা মজার কাহিনী ঘটেছিল।আর যেহেতু গ্রাম থেকে গেছিলাম সেজন্য আমাদের মধ্যে সবাইকে খুব শিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিত তা ছিল না কিছু লোক ছিল একেবারে গ্রামের আমি তাদের মুখ্য বলবো না কারণ তারা অনেক জ্ঞানী এবং দেশের প্রতি অনেক যত্নশীল প্রত্যেক কাহিনীটা ঘটেছিল সেটা হলো খাবার হোটেল খোঁজার জন্য আমরা গ্রুপিং হয়ে বের হয়েছিলাম যে যার সাথে যাই সে তার সাথে খাবার হোটেল খুঁজতে লাগল এবং খেতে লাগবে আমরা দুইটা গ্রুপ ছিলাম আমাদের সামনে একটা গ্রুপ ছিল পিছনে একটা গ্রুপ ছিল তো যেটা হয়েছিল সেটা হলো আমরা হচ্ছি খাবার হোটেল তো আমাদের মধ্যে এক ভদ্রলোক একটু লেখাপড়া কম জানত তবে জ্ঞানহীন না সে মজার ঘটনা ঘটেছিল যে খাবার হোটেল খুঁজতে গিয়ে ওখানে তো খাবার হোটেল আছে থাকার হোটেল আছে সব রকম হোটেল আছে সেখানে সে হোটেলের ভিতরে ঢুকে গেছে এবং তার এই গ্রুপে ঢুকে গেছে তার সাথে সাথে সে বলছে আমাদের খাবার দাও ওটা ছিল থাকার হোটেল খাবার হোটেল খাবার কোন ব্যবস্থা ওই হোটেলে ছিল না ওই হোটেলে থাকা যাবে তবে যদি খেতে চান বাইরে থেকে খেয়ে আসতে হবে এটা তাদের সাইনবোর্ডে পরিষ্কার করে লেখা ছিল কিন্তু বড় করে হোটেল লেখা থাকায় সে হোটেলে ঢুকে পড়ল এবং তাদের কাছে খাবার চেয়ে হোটেলের লোকজন একটু হাসাহাসি করলো তারপর তারা ও বিনয় ভদ্র ভাবে বলল বুঝিয়ে যেটা খাবার হোটেল না এটা হচ্ছে থাকার হোটেল আমরা সবাই ফিরে আসলাম এবং একটা মহিলা খাবার হোটেলে ঢুকলাম মহিলা খাবার হোটেল বলতে ওই হোটেলটার পরিচালক মহিলা এবং ওই হোটেলের যত ম্যানেজমেন্টের যত লোক আছে সবাই মহিলা আমরা ঢুকলাম যে যার পছন্দ মতো খাবার খেতে লাগল আমি খাইছিলাম শুটকি ভর্তা ও ডাল ভাত আমার যতদূর মনে পড়ে।সবাই খেয়ে যে যার মত বিল দিয়ে অপেক্ষা করছে সূর্য মামা কখন উঠবে।আর সেই সুন্দর মনোরম প্রকৃতি যে কত সুন্দর তা এই দৃশ্য না দেখলে লিখে বোঝানো সম্ভব না ভালো লেগেছিল। সূর্য ওঠার এই দৃশ্যটা দেখতে আমি আমার লাইফে এত সুন্দর প্রকৃতি আর কখনো দেখিনি আমি বিস্মিত হই এখনো মাঝে মাঝে যখন আমার চোখের সামনে ওই সুন্দর প্রকৃতি টা ভেসে ওঠে আমরা সবাই এই সুন্দর প্রকৃতির সাক্ষী হওয়ার জন্য ছবি উঠতে লাগলাম।সবাই মোটামুটি ছবি উঠলো তখন আমাদের একটা ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল ও একটা ফিল্মের ক্যামেরা ছিল সবাই যে যার সুবিধা মত ছবি উঠতে লাগল। এরপর সূর্য উঠে গেল সকাল হলো বিচে অলরেডি অনেক লোক সমাগম হয়ে গেছে। যে যার মতো মজা করছে কেউ মোটরবাইকে ঘুরছে কেউ সমুদ্রে ভাসছে কেউ সমুদ্রের বাতাস উপভোগ করছে এরই মধ্যে আমরা কুয়াকাটার পাশেই একটা বৌদ্ধ মন্দির আছে ওই মন্দিরে গেছিলাম ওখানে সম্ভবত, আমি সঠিক জানিনা ওরা কারা আজ ও আমি জানিনা তাঁরা কারা। চাকমা জাতীয় এই প্রকৃতির এই গোছের কিছু লোক থাকে ওদের মেয়ে গুলা এতো সুন্দর যে আপনি না বুঝতে পারবে না। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে সবাই সবার মত মন্দিরে ঢুকে মধ্যে দেখছে ছবি তুলছে। ওই মেয়েদের সাথে পরিচয় হচ্ছে কেউ মেয়েদের সাথে ছবি উঠছে এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে দুপুর হয়ে গেল দুপুর হবার পর আমাদের সাথে কিছু লোক গেছিলো অসম্ভব ভালো ফুট… খেলে তার মধ্যে একজন ছিল আলম দা ।  সে খুব ভালো ফুটবল খেলতে ফুটবল থাকায় সে ফুটবল নিয়ে ফুটবলের অনেক কসরত দেখাতে লাগল এবং লোকজন অবাক হয়ে তাঁর ঐ  কসরত দেখতে লাগল এবং উপভোগ করতে লাগল। আমরা দূর থেকে তার কসরত দেখছিলাম কিন্তু আমরা তার এই খেলা  দেখায় অভ্যস্ত ছিলাম যার জন্য আমাদের ওটা ওত  ভালো লাগছিল না যতটা ভালো লাগছিল এই সমুদ্রের সৌন্দর্য সমুদ্র তোমাকে সব দিবে সব দিকে সুন্দর সমুদ্র। তা এই সুন্দর কুয়াকাটা তে  না আসলে বোঝানো যাবে না।আমাদের একটা সমস্যার কারণে আমরা সূর্য ডোবা যে সুন্দর দৃশ্য সেটা দেখতে পারেনি। তার পূর্বেই আমাদের কুয়াকাটা ত্যাগ করতে হয়েছিল। সেজন্য আমরা সবাই সাড়ে চারটার দিকে বাসে উঠে পড়েছিলাম। কিছু খাবার কিনে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বাসে উঠে পরলাম।কুয়াকাটা থেকে ফেরার মুহূর্তে আমাদের ভয়ঙ্কর কিছু পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছিল। কুয়াকাটা থেকে আমরা যখন বরিশাল ঢুকবো এই ঢোকার রাস্তা আমাদের বাসের ড্রাইভার হারিয়ে ফেলেছিল যার জন্য আমরা এক গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে গেছিলাম। যেখানেই যাচ্ছি যে রাস্তায় যাচ্ছি আমরা ঘুরে ফিরে সেই আগের জায়গায় আবার ফিরে আসছি। তারপর স্থানীয় কিছু লোকের সাহায্য নিয়ে আমরা রাজশাহী শহর এ আসার রাস্তা পেলাম ড্রাইভার হেল্পার ও বাসের কন্টাক্টর আমাদের সাথে সারা দিন মজা করায় তারাও ছিল খুবই ক্লান্ত এরই মধ্য দিয়ে ড্রাইভার চালাচ্ছিল বরিশাল শহরে ঢুকতেই আমাদের বাস ধাক্কা দিল বরিশালের তৎকালীন ডিসি সাহেবের গাড়ি।.. তিনি আমাদের বাস আটকে দিল। পরে আমাদের এলাকার স্থানীয় এক ডিসি সাহায্যে আমরা সেখান থেকে পরিত্রাণ পেলাম। পরে আবার বাড়ি আসার উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলো বাসে সবাই ঘুমাচ্ছিল কারণ সবাই সারাদিন অনেক ব্যস্ততা খোল আনন্দ করাই সবাই ক্লান্ত ছিল আমি ও আমার সম্পর্কে এক খালু তখন জেগে ছিল… এই মুহূর্তে বাসের ড্রাইভার বাস চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছে বাসের গতি তখন প্রায় ঘণ্টায় 80 থেকে 90 কিলোমিটার বেগে। চলছে ঠিক বিপরীত দিক থেকে সমগ্র দিতে চাই একটি বড় ট্রাক আসছিল। তো খালুর বিশেষ দৃষ্টির জন্য এবং ড্রাইভারকে সজাগ করার জন্য আমরা এক বিরাট বড় দুর্ঘটনা থেকে ঐদিন বেচে গেছিলাম।পরে বাড়ি আসলাম আমরা দুপুরের দিকে।বিশাল বড় এক হর্ন বাজিয়ে বাস আমাদের গ্রামে প্রবেশ করল আর আমরা ইতি টানলাম এক শিক্ষণীয় ভ্রমণের অনেক কিছু শিখেছি দেখেছি জেনেছি এই ভ্রমণ থেকে ভ্রমণ আমাদের এই মনকে উৎফুল্ল করে আমাদেরকে শেখায় দেশ প্রেম আদর্শ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসার এক বিশাল মহৎ তো সবাইকে সুবিধা-মতো সময়ে ভ্রমণ করা উচিত এমন এনে দেয় আমাদের বৃত্তি মনের ও বাহ্যিক সকল কর্মের।

  •  সাগরে স্বপ্ন টানে
  •  Bangladesh
  •  ঢাকা
  •  Bus
  •  হোটেল
  •  যার যার পছন্দ অনুযায়ি
  •  বাধা নেই

0 comments

Leave a comment

Login To Comment