Image

স্বপ্নের ভ্রমণ

প্রায় ২ দিন ৩ টা ট্রেন যাত্রা করে অবশেষে কেরালা পৌঁছালাম। সেখান থেকে টয় ট্রেনে উঠে গেলাম। গন্তব্য শিমলা।
যখন শিমলার মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগলো তখন দুপুর হবে আনুমানিক।  উফ্ অন্যরকম অনুভুতি!!! পাহাড়ের উপরে শহর। মনে হয় আর একটু উঠলেই চুড়া ধরা যাবে। সব থেকে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো যে কড়া রোদ। তাপ ও আছে ভালই। এর মাঝেও সবাই শীতের কাপড় গায়ে। অবশ্য না পরে কি করবে? বাতাসটা তো ঠান্ডা। সরাসরি হাড়ে লাগে।

এজেন্ট এর লোকের সাথে কথা বলছে প্যাকেজ এর ব্যাপারে। বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো। ৫ দিন থাকা আর ঘোরার ব্যাবস্থা করে দিবে তারা। জন প্রতি ২৯১৩ রুপি করে।  পাহাড়ের গায়ে হোটেল। নিচে নেমে হোটেলে ঢুকতে হয়। হোটেল আফসারা। পাসপোর্ট চেক করল।চাবি নিয়ে রুমে গেলাম যে যার মত। দেখি ঘর ঠান্ডা!!! এই শীতের দেশে কেও এসি দেয়!! তাও এত বেশি!! পরে দেখি এসি তো দুরে থাক ফ্যান ও নাই। এমনিতেই ঘরগুলো এসি হয়ে আছে।অনেক জার্নি হয়ে গেছে। তাই এই শীতেও গোসল করে নিলাম। গিজার তো আছে। মজা লাগছে সব দেখে। এই সব এ আমরা এত অভ্যস্থ নই। সব কেমন জানি নতুন নতুন।

বিকালের দিকে বের হলাম। শহর দেখবো। আর শিমলা মানালির প্রধান আকর্ষণই হলে মল রোড। ২ ভাবে যাওয়া যায়। লিফটে আর হেঁটে। লিফট শুনে একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যেতে গাড়ি, রিক্সা লাগে। কিন্তু লিফট্!!! হ্যাঁ এখানে লিফট্ লাগে। কারন মল রোড আরো উপরে। আমরা ভাবলাম ঘুরতে আসছি যেহেতু ঘুরেই যাই। হেঁটেই যাব। হাঁটা দিলাম।  উপরে উঠছি। অনেক কষ্ট বাবা!! এখানে লোকগুলা যে কিভাবে সবসময় ওঠা নামা করে আল্লাহ্‌ই জানেন। আমরা কয়েকজন একটু থেমে ভাল করে নিঃশ্বাস নিলাম। খুব কষ্ট হচ্ছিল শ্বাস নিতে। আগে জান বাঁচানো ফরজ।  রাস্তা শেষ হলে মল রোড। এত উঁচুতে উঠে পুরো সমতল। একটা লোক বসে আছে। সাহায্য চায় আরকি।

হাঁটছি আর অবাক হয়ে দেখছি। এটা কোনো শহর মনে হলো না। সাজানো শ্যুটিং স্পট। অনেক বেশি সাজানো আর পরিস্কার। সন্ধ্যার সময়। লেড লাইট জালানো দোকানগুলো অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। কিন্তু পেটের দিকটাও তো দেখতে হবে। সারা দিন খাওয়া হয় নি। আমাদের ভ্রমণ বিশেষঙ্গ পুনম আগেই সব খোঁজ নিয়েছেন। কোন রেস্তোরায় খাবারের দাম কম। বাইরের দেশ। পকেটের দিকেও তাকাতে হয়। গেলাম। সবাই চাওমিন খেল। অবশ্য ফ্লেভার আলাদা। সত্যি বলতে খুব ভাল ছিল খাবারটা। টাকাও কম লাগলো তুলনামূলক।  তাই মানসিক আর শারীরিক দুই রকম শান্তিই হলো।

আবার হাঁটা। এদিক ওদিক দেখছি। মাঝে মাঝে ক্যামেরায় মুহুর্তগুলো বন্দী করছি। আমাদের ভিতর সানি আধুনিক ক্যামেরা নিয়েছে। মানে হলো ডিএসএলআর। 😜 স্বাভাবিকভাবেই ওর দাম বেড়ে গেল। আমিও অনেক গুলো ছবি তুলে ওর ক্যামেরাটা ধন্য করে দিলাম।  ওখানে ওয়াক্স মিউজিয়াম আছে।  ২৫০ রুপি। দাম শুনেই আমরা কয়েজন পিছনে। যাব না।  পুনম, সানি, সোম, পৃথা, রিতু গেল। আমরা বাকিরা চা খেতে গেলাম। অনেক ছোট্ট শহর। হারানোর ভয় নাই। ঐ যে বল্লাম সাজানো শ্যুটিং স্পট। পুনম পেয়ারা আর স্টবেরি মাখা কিনল। দাম না জেনেই। কতই আর হবে। আমাদের দেশ হলে ৩০ টাকা সর্বোচ্চ। এখানে না হয় ৫০ রুপি। কিন্তু না। ১০০ রুপি!! ওমা!! মনে হয়ে একটু সোনার পানি মেশানো। এরপর যে যার মত কিনছে ।  যা কিনছে যে কোন একজন। বাকিরা একটু করে চেখে দেখছে ।

এরপর একটা রাস্তা যেটা সোজা উপরে যায়। আবার উপরে। কি আর আছে। এই রকমই হবে। কেও কেও রাজি হলে না যেতে। আমারও আলসেমি লাগছিল। তাও গেলাম। সবাই যাচ্ছে তো। রিতু, আনিকা আর ইব্রাহিম গেল না। হাঁটছি ।  উপরে নাকি একটা চার্চ আছে। ওটা দেখাই উদ্দেশ্য। কিন্তু একি!! উপরে উঠে যা দেখলাম!! লিখে বেঝাতে পারবো না। আরেকটা সমতল জায়গা আর এখানেও অনেক দোকান। রাতের বেলা অসাধারন লাগছে। ঠিক মাঝে ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তি। আর আরো উপরে ইন্ডিয়ার পতাকা। ব্যাপারটা খুব ভাল লাগলো। শহরের সব থেকে উঁচু জায়গায় পতাকা। আর সেই উঁচুতে আমরা।

ঠান্ডা বাতাস!! খুব বেশি ভাল লাগছে ।  ওহ্ একটা কথা বলাই হয় নি। মল রোডে কোন যানবাহন নাই। শুধু হাঁটা। তাই ফাঁকা জায়গা অনেক। আমাদের মত অনেকেই গেছে। আড্ডা দিচ্ছে। আসলে আড্ডা দেয়ার জায়গা না এটা। এটা এমন একটা জায়গা যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা চুপ করে কিছু না ভেবেও বসে থাকা যায়। মন খারাপের প্রশ্নই আসে না। আমরা বেশ খুশি। জানতাম না এর থেকেও বড় কিছু অপেক্ষা করছে। জায়গাটা পাহাড়ের একদম উপরে। তাই চারপাশ রেলিং দেয়া। ধারে যেতেই দেখি উপর দেখে পুরো দুনিয়া দেখা যায়। ওহ্ আল্লাহ্ এটা কি ছিল!! মনে হচ্ছে আকাশ আজ উপরে না। নিচে। পাহাড়ের গায়ে তারার ফুল ফুটে আছে। বাতাস বইছে। সবাইতো পুনমেরর জয়জয়কার করতেছে। ট্যুরটা সফল করার জন্যে। কিছুক্ষণ ছিলাম ওখানে। আসার ইচ্ছা একদম ছিল না। অগত্যা লাভ নাই। 😞

‌রাত প্রায় ১০ টার বেশি। কিন্তু জায়গাটা এত নিরাপদ!! একটা মেয়ে একা থাকলেও কেও কিছু বলার নাই। রাস্তা এখন আরো ফাঁকা। হোটেল ফিরতে হবে। সকালে আবার বের হতে হবে। রওনা দিলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে।সবার মন খুব ভাল। সারা দিন কষ্ট করে আসার পর ক্লান্তিটা আর নাই। খারাপ ও লাগছে। জায়গাটায় একটা মায়া আছে।

  •  A dream tour
  •  India
  •  Shimla
  •  Train
  •  Hotel
  •  Chaw min, ice cream, cha, lacchi, roshgolla
  •  বাজার থেকে কিছু কেনা যায় না। দাম একটু বেশি রাখে।

0 comments

Leave a comment

Login To Comment