Image

Trip to Kalimpong

কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত শহর কালিম্পং ।সদ্য পশ্চিমবঙ্গের নতুন জেলায় রুপ নেয়া ছোট শহর কালিম্পং।তিব্বতীয়ান আধিক্যের হিমালয়ের পাদদেশে আর তিস্তার পারে শৈলপাহাড়ের উপর অবস্থিত। কবিগুরু হয়তো এর রুপরস,জলবায়ু আর বাহারি ফুলের মাঝে হারিয়ে ফেলেছিলেন নিজেকে তাই শতব্যস্ততার মাঝেও কয়েকবারই ছুটে এসেছেন এই শহরে।
গ্যাংটক/সিক্কিম+দাজিলিং ভ্রমণের মাঝে গ্যাংটক থেকে দার্জিলিংগামী গাড়ি না পাওয়াতে চলে এসেছিলাম এই শহরে। প্রথমে শহর দেখে মন খারাপ হলেও টাটাসুমো গাড়ি নিয়ে শহর থেকে বের হতেই এর রুপরস একেবারে গ্রাস করে নিয়েছিলো আমাদের।
অর্থ থাকলেই যে মননশীলতা থাকেনা এর বাস্তব উদাহারন পেয়েছিলাম এখানে এসে।কি ধনী কিংবা গরীব সবার বাড়িগুলোই খুব সুন্দর পরিপাটী। কাঠ,পাথর আর ইমারতের বাড়িগুলোতে স্কটিশ ধাঁচ আছে।উপরের দিকে টিনের কিংবা ঢালাই হলেও দুই সাইডেই ঢালু।
আর যেটা সবচেয়ে আমাকে আকৃষ্ট করেছে সেটা হল প্রতিটি বাড়ির সামনে ফুলগাছ।এবং এত বাহারি রঙ আর বৈচিত্রের ফুলগাছ আমি কখনো দেখিনাই।
বাহারি প্রজাতির অর্কিড আর নাম না জানা পাহাড়ি ফুল দেখেই হারিয়ে গিয়েছিলাম।
শেষ বিকালে হন্টেড হাউজ খ্যাত দ্যা মরগ্যান হাউজের সামনে ইন্ডীয়ান আর্মি পরিচালিত ক্যান্টিনে বসে সলিড কফিবীজ গ্রেন করে এক কাপ ১ নাম্বার কফি খেয়ে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন এই সৌন্দয্যে।
এর আরেকটা দিক হচ্ছে এর দাম সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই ক্যাফেটেরিয়াতে মাত্র ২৫ রুপিতে একটা ডার্ক চকলেট বিস্কুট সহ কফি মিলে। সাথে ৬০ রুপিতে দোস,৩০ রুপিতে ইডিলি ইত্যাদি ইত্যাদি।বাজারের দরমূল্য থেকে কম দামেই কোমল পানীয় পাবেন এখানে।
আগে থেকে যোগাযোগ করে গেলে রাত্রি যাপন করতে পারেন দ্যা মরগ্যান হাউজে। ভাড়া ২০০০/৩০০০ এর মাঝামাঝি।
আমাদের ইচ্ছা থাকলেও উপায় ছিলোনা। 
রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজাড়িত গৌরী হাউজে না যেতে পারলেও পরবর্তীতে উনি যে বাড়িতে বারবার এসেছেন সেই বাড়িতে গিয়েছিলাম
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ এই বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
কতদিন এইরকম থাকবে জানা নাই।
কবিগুরুর ৮০ তম জন্মদিন এই বাড়িতেই করা হয়েছিলো। 
মংপুতের বাড়ির কাছেই আছে নিজস্ব পরিচালনায় ক্যাকটাস বাগান দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির ক্যাকটাসের দেখা মিলবে এখানে সাথে কালিম্পং শহরের সুন্দর ভিউ।
জ্যাং ঢোক পালরি ফোডাং বৈদ্ধ মন্দির এখনকার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ এবং বৈদ্ধ ধর্ম অবল্বনকারীদের জন্য অন্যতম পবিত্র স্থান।
মন্দিরে এখনো রক্ষিত আছে বহু দুষ্প্রাপ্য তিব্বতি বৈদ্ধ পুঁথি।
এরসাথে আছে বৈদ্ধভিক্কু বিদ্যালয়। মসজিদ কিংবা মন্দির যেকোন যায়গাতে গেলে কি এমন একটা বিষয় থাকে জানা নাই হৃদয়ে অন্যরকম প্রশান্তি আসে। এই যায়গাও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা।মন্দিরের ভিতর প্রবশের পর ভিতরকার পেইন্টিং আর কারুকাজ আমাকে অনেক বেশি মুগ্ধ করেছে।বাইরে বৈদ্ধভিক্কুদের লেখাপড়া মন্দিরে তাদের পদচারণা সব মিলিয়ে এক অন্যজগত।
যারা এডভেঞ্চার প্রিয় তাদের জন্য রয়েছে তুলনামূলক কম খরচে প্যারাগ্লাইডিং করার সুযোগ এখানে। ৩০০০/৩৫০০ রুপির মাঝ্যমে প্যারাগ্লাইডিং করার সুযোগ পাওয়া যাবে এখানে। 
দেওলো রিসোর্ট (Deolo Resort) মরগ্যান হাউজের মতই। এখানেও আগে থেকে যোগাযোগ করে আসলে থাকতে পারবেন। ভাড়া ২০০০ থেকে শুরু।
তাছাড়া না থাকলেও ভিতরে ঢুকার সুযোগ পাবেন।আর দেখতে পারবেন এর গাঠনিক চাকচিক্য।আমাদের প্রতি প্রকৃতি অনেক বেশি সদয়ছিলো। আমরা যখন গিয়েছি পুরো এলাকাটাই মেঘের ভিতরে ছিলো।
৫ হাত সামনের কিছুও ঝাপসা ছিলো।পুরো রিসোর্ট ছবির মত করে সাজানো।সামনে মাঠ,পাশে পাইনের আর ঝাউয়ের বন আর
পাথরে বাধানো পথ। বিশাল ঝাউ বনের ভিতর থেকে যখন মেঘ আর সূর্যের খেলা চলে তখন আসোলে আমার মত লেখকের পক্ষে বুঝানো অসম্ভব এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে।
পাইন বনের ফাঁক দিয়ে মেঘ ভেসে ভেসে আসছে আর এর মিষ্টি ঝাপ্সা আপনার গালে ঠোঁটে লাগছে।
দেওলো রোড থেকে কিছুটা দূরে নামলেই পাওয়া যাবে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কিছু হোম স্টে টাইপ হোটেল। সেখানে অল্প ভাড়াতে থাকতে পারবেন এবং খেতে পারবেন। হোটেল রুম থেকে পেয়ে যাবেন কালিম্পং এর সুন্দর ভিউ। রাতের বেলায় দুরের আলোগুলোকে মনে হয় যেন পাহাড়ের মাঝে জোনাক পোকা জ্বলছে।
আর খাবারের কথা বলতে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন বাংলা থেকে শুরু করে সাউথ ইন্ডিয়ান,নেপালী বিভিন্ন ধরনের কুইজিন।
ভুমি থেকে ১২০০০ ফুট উঁচুতে হওয়াতে দাম তুলনামূলক একটু বেশি। ভাত,ডাল,ডিম কারী,আলু, ম্যাগি,মাংশ,ইডলি,দোসা ইত্যাদি পেয়ে যাবেন।
লেখা অনেক বড় হচ্ছে কালিম্পং নিয়ে আরো অনেক কিছু আছে বলার এদের এডুকেশন সিস্টেম,পোশক,ভাষা,৫ হাজার থেকে ১২ হাজার ফুট উঁচুতে যাওয়া আসার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি ইত্যাদি।
যারা দার্জিলিং কিংবা গ্যাংটকের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চান এবং নিজেকে উপলব্ধি করতে চান, নির্দিধায় চলে যান। কথা দিচ্ছি ভালো লাগবে।

  •  ট্রিপ টু কালিম্পং
  •  India
  •  Kalimpong
  •  Car (Hire)
  •  Hotel
  •  Local food

0 comments

Leave a comment

Login To Comment