Image

Khagrachari-Rangamati-Kaptai-Bandarban-Cox’sbazar-Teknaf; Mohammad Hasib Ud Daula; Blog

আলহামদুলিল্লাহ্‌!!!

এটা ছিল অনেকদিনের একটা স্বপ্ন। খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছি। সারাজীবনের জন্য স্মৃতিতে একটা মাইল ফলক (1045 কিলোমিটার রাইড) হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

১১.০৪.২০১৯ ইং, রাত ১১.৪৫। 
ঢাকা থেকেই যাত্রা শুরু করি আমি আর ওমর শরীফ এরপর শান্ত রাতের ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ধরে বারৈয়ারহাট হয়ে ফযর নাগাদ পৌছাই খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি শহরটা আগেই কয়েকবার দেখা ছিল। তাই অদেখা পাহাড়ের খোঁজে খাগড়াছড়ির জালিয়াপাড়া মোড় থেকে ঢুকে গেলাম চরম অফট্র‍্যাকিং এ সেরকম দুর্গম পথ ধরে রাঙ্গামাটি শহরের উদ্দেশ্যে। ৬৭ কিলোমিটার দুর্গম গিরি পেরিয়ে রাঙ্গামাটি ক্যান্টনমেন্ট গিয়ে একটা হালকা বিরতি নেই, সাথে দেখা করি ছোট ভাই ডাঃ ফেরদৌস জামান রিফাত এর সাথে। ওর দেখানো পথ ধরে অসামবস্তির ব্রীজ পার হয়ে বড়াদাম হয়ে কাপ্তাই লেকের পাড় ধরে এগিয়ে চলি আর প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে থাকি। পথেই পড়ে যায় বেরাইন্না লেক। কিছুক্ষণ উপভোগ করি। প্রচন্ড রোদ আর গরম থাকায় কায়াকিং এর চিন্তা বাদ দিলাম। এরপর কাপ্তাই রাস্তা ধরেই চলে আসি লিচুবাগান ফেরী ঘাটে। সাঙ্গু নদী পার করতে বাইকসহ নিজেরাও উঠে গেলাম ফেরীতে। ১০ মিনিটের নৌ যাত্রা শেষ করেই উঠলাম আবারো পাহাড়ী ট্র‍্যাকে। ৩৪ কিলোমিটার পাহাড় পাড়ি দিয়ে দুপুর নাগাদ গিয়ে উঠি বান্দরবান সদরে। নামাজ এর বিরতি এবং খাওয়া-দাওয়া সেরে নিলাম তাজিং ডং রেস্টুরেন্ট এ। এরপর আবার যাত্রা শুরু, তবে সময় যা গড়িয়ে গেল তাতে প্ল্যান এ কিছুটা পরিবর্তন আনতে হলো। নীলগিরির পথ বাদ দিয়ে বিকেলটা কাটালাম নীলাচল এ। এরপর আকাবাকা রাস্তা ধরে একেবারে কেরাণীহাট মোড় থেকে উঠে গেলাম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে তে। পথে আসর এবং মাগরিব এর নামাজের বিরতি দিয়ে কক্সবাজার পৌছাতে রাত ৯.০০ টা বেজে গেল। এরফাকেই ফোন কল দিয়ে জানিয়েছিলাম কক্সবাজারের বন্ধু তাহমিদুল মুনতাসির কে। ফলে থাকার ব্যবস্থা আগেই করা হয়ে গিয়েছিল। শহরে ঢুকেই ফ্রেশ হয়ে এশার সালাত, খানাপিনা আর হালকা আড্ডা সেরেই সোজা বিছানায়। রাজ্যের ক্লান্তিতে বিছানায় পড়া মাত্রই যেন ভোর ৫.০০ টা বেজে গেলো। ফ্রেশ হয়ে ফযরের নামাজ সেরে বেরোতে বেরোতে ৬.৩০। আর দেরী না করে বাইক স্টার্ট দিলাম, সোজা মেরিন ড্রাইভ এর পথ ধরলাম। প্রায় সোয়া এক ঘন্টার কলিজা ঠান্ডা করা মনোমুগ্ধকর বাইক রাইডিং করে মেরিন ড্রাইভের ৭৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌছাই টেকনাফ। দারুণ একটা ভোর উপভোগ করলাম বীচের সাম্পানের উপর বসে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে বিশাল ওই সমুদ্রে মাঝে বালির উপর শুয়ে এমন একটা সকাল দেখা অনেক ভাগ্যের বলে মনে করি। 
এবার ফেরার পালা……. 
টেকনাফ থেকে ঢাকা যাত্রায় শুধু চা, নামাজ এবং খাবারের বিরতি ছাড়া কোন স্টপেজ থাকবে না এটাই প্ল্যান করলাম। টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু সকাল ৮.০০ টায়, চট্টগ্রাম এ দুপুর ২.১৫ তে এর মাঝে রাস্তায়ই দেখা হয়ে গেল বন্ধু জাবেদ ইকবাল এর সাথে, হালকা আলাপ আর একটা সেল্ফি, আবার হাইওয়েতে। সীতাকুন্ডুতে  লাঞ্চ আর যোহরের নামায আদায় করলাম। বিপত্তি বাধলো বিকাল ৫.৪৫ এ দাউদকান্দির আগে আগে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি তে। দেড় ঘন্টার একটা ব্রেক দিতেই হল। বাতাস আর বৃষ্টি একটু কমতেই রেইন কোট গায়ে চাপিয়ে এক স্টার্টেই ঢাকায় বাসায় ঢুকি ১৩.০৪.২০১৯ ইং রাত ৯.০০ টায়।
সফল সমাপ্তি ঘটে একটা স্মরণীয় রাইডের আর পুরো সফরটিতে আমার Hunk_DD_2017 বাইকটা দিয়েছে দারুণ একটা ভালোবাসাময় একনিষ্ঠ সহযোগিতা।

  •  Hill Track with the longest sea beach
  •  Bangladesh
  •  Dhaka-Khagrachari-Rangamati-Kaptai-Bandarban-Cox'sbazar-Teknaf-Dhaka
  •  Motorcycle
  •  Night Stay at Hotel in Cox's Bazar
  •  Local Foods everywhere
  •  Sufficient consumption of fresh drinking water

0 comments

Leave a comment

Login To Comment