Image

কুয়াকাটা ভ্রমণ।

১১ আগস্ট, ২০১৮।

ভোর তখন ৬ টার মতো। ঘুম থেকে উঠেই সিয়াম কে ফোন দিলাম, বুঝতে পারলাম ছেলেটা তখনও ঘুমাচ্ছিলো। গতরাতের প্ল্যানের কথা মনে করিয়ে দিতেই ওর টনক নড়লো। ২০ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে বের হতে বললাম সাথে দিপু, হিমু, জুবায়ের কে ফোন দিয়ে বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দেয়ার দায়িত্বও দিয়ে দিলাম।

সিয়ামের ফোন কেটে আমি হাফিজ, মিলন কে ফোন দিলাম। ওরা তখন রেডি হচ্ছিলো।

মনের ভেতর এক ধরনের উত্তেজনা অনুভব করতে শুরু করলাম। সবেমাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি, তাই উত্তেজনা একটু বেশিই ছিলো।

গতরাতেই আমরা ৭ জন মিলে প্ল্যান করছিলাম সাগরকন্য কুয়াকাটা যাবো, আজকেই আমাদের প্ল্যান টা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, মনেহচ্ছিলো এখনও একটা স্বপ্নের মধ্যে আছি।

 

অনলাইনে বাসের টিকেট বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম রাতেই। ৮:৩০ এ বাস ছাড়বে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে।

সবাই ৮:০০ বাজেই গাবতলী পৌছে হালকা নাস্তা করে নিলাম। খাবার পানি আর কিছু শুকনা খাবার নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম সবাই।

বহু কষ্টে ওদের সাথে যুদ্ধ করে আমার সীটটা জানালার পাশে নিতে সক্ষম হলাম। সবাই চাচ্ছিলো জানালার পাশে বসতে।

বাস ছাড়তে ১০ মিনিট লেট হলেও আমাদের মাঝে ততোটা বিরক্তি আসেনাই।

১১ টার দিকে বাস পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠলো। ফেরি থেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সবাই নামলাম বাস থেকে। মিলন ঘুমাচ্ছিলো, বেচারা এই পার্ট টা মিস করে গেলো।

যখন পটুয়াখালী শহরে পৌছালাম তখন আনুমানিক বিকাল ৫ টা বেজে গেছে। মাঝে একবার যাত্রাবিরতীতে সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে নিছিলাম।

কুয়াকাটা পৌঁছাতে লাগলো আরও ঘন্টা দুয়েক। অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে তখন চারদিকে। 

হিমু ভয়ার্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

— এই সাউন্ড টা কই থেকে আসতেছেরে?

সিয়াম হেসে উত্তর দিলো।

— এইটা সাগরের গর্জন।

 

হ্যা আমরা সাগরের খুব কাছাকাছি চলে গেছিলাম। কিন্তু তখনও সাগরের দেখা পাইনি। বাস থেকে নেমেই নতুন মিশনে নামলাম, থাকার জন্য হোটেল খুঁজতে হবে। যেহেতু আমরা সবাই স্টুডেন্ট, তাই কম বাজেটে ভালো হোটেল খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হতেছিলো।

হোটেল রুমে যার‍যার ব্যাগ রেখেই সবার একটাই ইচ্ছা এখনই সাগর পাড়ে যাবে। আমি গেলাম না, রুমেই বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।

পরদিন সূর্য ওঠার আগেই সবাই সাগর পারে গিয়ে চা খাচ্ছিলাম। কুয়াকাটা আসছি, বাংলাদেশের একমাত্র জায়গা যেখান থেকে সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত খুব ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

সাগরের জল ভেদ করে যখন সূর্য ওঠা শুরু করলো তখন সবাই নির্বাক হয়ে দৃশ্যটা দেখছিলাম। মনেহচ্ছিলো যেন কল্পনার কোন জগত বাস্তবে দেখছি। ফটাফট কয়েকটা ছবিও তুলে নেই।

সূর্য ওঠা শেষে সবাই সাগরের জলে পা ভেজালাম খানিকটা।

,

দুপুরের দিকে একসাথে গোছল করলাম। ফুটবল খেললাম সাগর পাড়ে। আমরা সাতজন এক দলে, আর কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা আরও ৭/৮ জন অন্য দলে। অনূভুতিগুলা প্রকাশ করার মতো না।

স্পেশালি সাগরে গোছল করার মজাই অন্যরকম।

হোটেলে এসে মিঠাপানি দিয়ে সাগরের নোনাজল ধুয়ে নিলাম শরীর থেকে।

দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেলে আবার সাগর পারে। সূর্যাস্ত দেখে হোটেলে ফিরলাম। রাতের খাবার খেয়ে সবাই যারযার মতো ঘুম।

,

পরদিন সকালেই সবাই বেড়িয়ে পড়লাম ঝাউবন, লালকাকড়ার চর, শুটকি পল্লী, লেবুর চর দেখার জন্য। ৭ জনে মোট ৪ টা বাইক ভাড়া করলাম। সবগুলা জায়গা ঘুরে দেখলাম। 

লাল কাকড়া দেখতে পেলেও হাত দিয়ে ধরার সুযোগ হয়নি। প্রত্যেকটা জায়গাই প্রাকৃতিক সৌন্দের্যে ভরপুর ছিলো।

বিকেল বেলা বৌদ্ধমন্দির এবং আশপাশের আরও কয়েকটা জায়গা ঘুরলাম। 

সবাই বায়না ধরলো, কাকড়াভাজা খাবে। আমি ওদের সাথে বসে বসে মচমচে করে ভাজা কাকড়ার মোটামোটা পা গুলো খাচ্ছিলাম শুধু।

পরদিন ১৩ আগস্ট। সবাই মিলে কিছু ছবি তুলে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিলাম।

সন্ধার দিকে বাস ছাড়লো কুয়াকাটা থেকে। ঢাকায় আসতে আসতে রাত প্রায় ৪ টা বেজে গেছিলো।

সবমিলিয়ে দারুন ছিলো আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ।

  •  সাগরকন্যা কুয়াকাটা ভ্রমণ।
  •  Bangladesh
  •  কুয়াকাটা, পটুয়াখালী, বাংলাদেশ।
  •  ভ্রমণ
     ভ্রমণ
     ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা।
     আমাদের ভ্রমণ কাহিনী।
  •  Bus
  •  40
  •  1500 per person.
  •  Hotel cost 1000 per person. Travel cost 1600 per person.

0 comments

Leave a comment

Login To Comment