Image

নীল পরীর দেশে

স্তব্ধচিত্তে শুনেছিনু গর্জন তোমার
রাত্রিবেলামনে হল গাঢ় নীল নিঃসীম নিদ্রার
স্বপ্ন ওঠে কেঁদে কেঁদে। নাইনাই তোমার সান্ত্বনা;
যুগ যুগান্তর ধরি নিরন্তর সৃষ্টির যন্ত্রণা
তোমার রহস্য-গর্ভে ছিন্ন করি কৃষ্ণ আবরণ
প্রকাশ সন্ধান করে।
রবীন্দ্রনাথ এর এই কবিতার কিছু লাইন পড়লেই বোঝাযায় সমুদ্রের এই রহস্য নিয়ে সকলের ভেতর কত প্রশ্ন কত জানার আগ্রহ। 
সমুদ্র আমার কাছে বরাবর ই এক রহস্যের যায়গাবিশাল এক নিলাভ আকাশের মাঝে ভেসে বেড়ানোর অনুভতি মত হলো সমুদ্র। যেদিকে তাকানো যায় কোনো কূলকিনারা নাই খালি পানি আর পানি। মাঝেমধ্যে মনেহয় এই বুঝি কিছু একটা উঠে এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে অথৈ পানির নিচে ।আর বুঝি কখনো ফেরা হবেনা সেখান থেকে। যাইহোক এইসব কিউরিসিটি থেকেই আমার সমুদ্রের প্রতি ভালোবাসা। বারবার ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে কি মোহো আছে তার ভেতরযে আমাকে এতটা টানে । সেই মোহো থেকেই ঘুরে আসা অথৈ নীলের বুকে। আর সমুদ্র কে ঠিকভাবে উপভোগ করতে হলে আমার কাছে সেন্টমার্টিন এর মত বেস্ট প্লেস আর কোথাও নেই। হুট করে সমুদ্রের বুক ফুঁড়ে উঠে আসা এক দ্বীপ সেন্টমার্টিন । চারদিকে পানি আর মাঝে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সাগরের সাথে এতবড় স্পর্ধা দেখানো কি আর চাট্টিখানি ব্যাপার আমার সেন্টমার্টিন কে মনে হয় ষোড়শী একনারী পুরো দ্বীপ টা জুড়েই রয়েছে সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি ।চারপাশে নীলপানি আর বড়বড় ঢেউ গুলো এসে নতজানু হচ্ছে সাদা বালির বিচ এ। আর শারি শারি নারিকেল গাছ সারাদিন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে দৃশ্য গুলো দেখছে ।সেন্টমার্টিন এর বিচ যেনো একেক সময় একেক রুপে আবির্ভুত হয় তার ভক্তকূল এর কাছে। সকালে প্রখর রোদ্রতাপ আবার বিকেলে মন রাঙানো গধুলীর রঙ। এই রঙ কোনো ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে আনার মত না। কিন্তু আপনার নিজ চোখে একবার দেখলে মনে রয়ে যাবে আজীবন। চোখ বন্ধ করলেই যেনো পুরোটাই আবার হাজির হবে আপনার সামনে ।আর বাড়তি পাওনা হিসেবে তো আছেই দূরের মায়ানমার সীমান্তের সুউচ্চ পাহাড়সারি। সাথে বাংলাদেশ নেভীর নোঙ্গর করে রাখা সুবিশাল এক জাহাজ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা যখন নামে ততক্ষনে সেন্টমার্টিন এর ডেক থেকে মাছ ধরার উদ্দ্যশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে শখানেন নৌকা। সারারাত উত্তাল সমুদ্রে মাছ ধরে ফিরে আসবে আবার ভোর বেলায়। পূর্নিমার সেন্টমার্টিন এর জৌলস নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মত না সন্ধ্যার পর ই হুট করে কোথাথেকে যেনো উকি দেয় এক লাল রক্তবর্ন গোকালার চোখ। কিছুক্ষনের মধ্যেই ধারন করে পুরো দানবীয় আকার।চাঁদের ও নাকি কলঙ্ক আছেকিন্তু সেন্টমার্টিনে ডকইয়ার্ডে বসে চাঁদ দেখলে আপনি তা মানতেই পারবেন না। মানবেন ই বা কিভাবে এত সুন্দর একটা জিনিষ এর কলঙ্ক থাকে কিভাবে। পুরো দ্দ্বীপ টা ভরা পূর্নিমার চাঁদের আলোয় যে কি লাগে তা চোখে না দেখে বিশ্বাস করার মত না। এই চাঁদের আলো মেখে কোনো কপোতকপোতি কাটিয়ে দিতে পারবে যুগের পর যুগ,লিখতে পারবে তাদের সম্পর্কের পাঁচফোড়ন। মেয়েটি হয়তো ছেলেটিকে চাঁদ সাক্ষি রেখে বলতে বলবে আমায় ছেড়োনা কখনো। কিংবা ছেলেটি মেয়েটিকে বলবে চাঁদের আলোয় তোমার ঐ কাজল ওয়ালা চোখ বেশ লাগছে 

Description: https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/t6c/1/16/2764.png?_nc_eui2=AeFFTB9ed8ish6WgEVNgQDdEvsjamHzgv8ginUiAK0Nw8xJAjQKUFHQ2k-d1AjooxoMkeBOA2-rPDT6Wg5hS5ea0eiuejKSwyv_51HUjq4sVzw<3 । এক চাঁদ দেখেই পুরো রাত কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব এখানে। সেন্টমার্টিন এর আরেক নজরকাড়া সৌন্দর্য ছেড়াদ্বীপ । জোয়ার এর সময় সেন্টমার্টিন থেকে আলাদা হয়েযায় দ্বীপ টি ।এটাই এই দ্বীপ এর অনেক বড় বৈশিষ্ট্য সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়াদ্বীপ যাওয়াযায় পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেল এ। সৈকতের কোল ঘেশে সাইকেল চালানোর মজা যে একবার পেয়েছে সে বারবার যেতে চাইবে এখানে। ছেরাদ্বীপ যেতে যেতে দেখাযায় কিছু জেলে পরিবার এর বসতবাড়ি আর জেলেদের সন্ধ্যায় সমুদ্রে যাওয়ায়র প্রস্তুতী । টেকনাফ হেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া কিংবা আসা যায় দুইটি মাধ্যমে এক ট্রলারে দুই শিপে।শিপ রিলাক্সিং হলেও ট্রলার জার্নি খুব এডভেঞ্চারাস। একটা সময় নিজেকে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো ও মনে হতে পারে।সেন্টমার্টিন খুবি নিরাপদ সকলের জন্য।লাইফের নিত্যদিনের ব্যস্ততা গুলোকে ছুটি দিয়ে অন্তত ২ টা দিন বেড়িয়ে আসতে পারেন সেন্টমার্টিন থেকে। একটা কথা বলবোআপনার লাইফের সেরা কয়েকটা দিন হবে সেন্টমার্টিন এর দিন গুলো ।

সব শেষ এ একটাই কথা মানব সৃষ্ট আবর্জনা দিয়ে এত সুন্দর যায়গা গুলো নোংরা করবেন না। নিজে সচেতন হোন অন্যকে সচেতন করুন 🙂

 

  •  saint martin
  •  Bangladesh
  •  Saint martin
  •  saintmartin
     saintmartin
  •  Bus
  •  1 room
  •  sea food , rice , fish

0 comments

Leave a comment

Login To Comment