Image

প্রত্নতাত্ত্বিক শহর কুমিল্লা

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে, বাসে করে কুমিল্লার রূপ দেখার জন্যে বেরিয়ে পড়লাম। মাত্র ২ ঘণ্টায় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বিশ্বরোডে চলে আসলাম। আমি সব প্ল্যানিং আগেই করে রাখি তাই সেই লিস্টে কুমিল্লা ওয়ার সিমেট্রি আঞ্চলিক নাম ইংরেজ কবরস্থান দেখার জন্য কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বিশ্বরোডে নেমে পড়লাম। কুমিল্লা সিলেট রোড থেকে রিক্সা ভাড়া দিয়ে রাওনা দিলাম ইংরেজ কবরস্থান। এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেসকল সৈনিক শহীদ হয়েছিল ওনাদের সমাধি। ওয়ার সিমেট্রি থেকে বের হয়ে রিক্সা নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট বিশ্বরোডে চলে আসলাম। এখান থেকে মাইক্রোবাস করে চলে আসলাম কোটবাড়ি বিশ্বরোড। কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে সিএনজি করে চলে আসলাম কোটবাড়ি বার্ডের সামনে। বার্ডের সামনে থেকে পশ্চিমে হাঁটলে চলে আসবে ইটখোলা মুড়া। এখানে একই সাথে পাশাপাশি ৩টি পুরাতন বিহার আছে ইটখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বিহার আর লতিকোট মুড়া। সবগুলা ঘুরে একটু পশ্চিমে উল্টো পাশে আছে রহিম রূপবানের রূপবান মুড়া। রহিম রূপবানের কাহিনী আমরা সবাই জানি। এই সেই জায়গা।

সব ঘুরে এখান থেকে বের হয়ে সোজা বার্ডের সামনে চলে আসলাম, এবার মিশন কুমিল্লা বার্ডের

নীলাচল পাহাড় আর ‘দিপু নাম্বার ২’-এর সেই পানির ট্যাংক। কিন্তু সমস্যা হলো এখানে ঢুকতে আগে থেকে পারমিশন নিতে হয়, যা আমি নিয়ে আসিনি। চলে আসলাম বার্ডের গেইটে। আসতেই প্রশ্ন— ‘কোথায় যাবেন?’ সুন্দর করে উত্তর দিলাম— ‘আমি ঢাকা থেকে আসছি, এখানের কথা অনেক শুনেছি, একটু দেখতে আসলাম’। ভদ্রলোক কিছু না বলে অনুমতি দিয়ে দিলো। ভিতরে সুন্দর পরিবেশে ঘুরতে ঘুরতে চলে আসলাম নীলাচল পাহাড়ে এরপর সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠে সেই “দিপু নাম্বার ২”-এর পানির ট্যাংকির দেখা পেলাম। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর খেয়াল করলাম দুপুর হয়ে গেছে।

বার্ডের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের প্রশংসা অনেক শুনেছি। এখানে খাবারের দাম অনেক কম আর মান ভালো আর স্বাদ তো মুখে বলার মতো না। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে বার্ডের গেইট থেকে বের হতেই অটো রিক্সাকে ডাকতে শুনলাম ‘শালবন’। উঠে একেবারে শালবন যাদুঘরের সামনে এসে নামলাম। সময় কম তাই প্রথমে চলে গেলাম ২০ টাকা টিকেট কেটে যাদুঘরে।

এরপর ২০ টাকা টিকেট কেটে রাজবাড়ির ভিতরে চলে এলাম। এরিয়াটা অনেক বড় তাই একটু সময় নিয়ে দেখতে লাগলাম। এরপর চলে গেলাম অষ্ট ধাতুর তৈরী বৌদ্ধ মন্দির দেখতে। শুনলাম থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে এতো বিশাল আকারের মূর্তি। বাহির থেকে দেখতে অনেক সুন্দর তাই লোকের ভীরও অনেক হয়; ও হ্যা, ঘুরতে ঘুরতে বলতে ভুলে গেলাম এখানেও প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। এখানে প্রচুর কুকুর আছে তাই কুকুর যারা ভয় পান তারা একটু সাবধান আর যেহেতু ধর্মীয় জায়গা প্রতিটা মানুষের উচিৎ অন্য ধর্মের মানুষকে ও তাদের উপাসনালয়কে সন্মান দেখানো। তাই আমরা সতর্কতার সাথে ঘুরেছি, প্রার্থনালয়ে জুতা খুলে ঢুকেছি, অহেতুক কোনো শব্দও করিনি।

এখান থেকে বের হয়ে মেইন রোডে এসে অটোরিকশা করে চলে এলাম কোটবাড়ি সিএনজি স্টেশনে এখান থেকে সিএনজিতে একেবারে কুমিল্লার প্রাণ কেন্দ্র কান্দিরপার নামিয়ে দিল।

নেমেই ঝটপট রিক্সা নিয়ে ধর্মসাগর পাড়ে চলে আসলাম। এখানে এসে বিশাল দীঘি আকারের ধর্ম সাগর দেখতে দেখতে সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে চলে এলাম ধর্ম সাগরের পাশেই অবস্থিত রাণী কুটিরে। ভিতরে ধর্মসাগরের ঘাটে বসে  সূর্য ডোবা দেখলাম আর হ্যাঁ এখানে বোট ভাড়া করে পুরোটা ঘোরা যায় যা আমার কাছে ব্যয়বহুল মনে হয়েছে তাই আমি এটা বাদ দিলাম।

সব শেষে প্ল্যানিং অনুযায়ী কুমিল্লা আসার মূল উদ্দেশ্যের পথে মানে কুমিল্লা মানে আমরা যা বুঝি আর কী; তা হলো বিখ্যাত রসমালাই। তাই তাড়াতাড়ি রাণী কুটির থেকে বেরিয়ে চলে আসি পার্কের গেইটের কাছে ওইখান থেকে রিক্সা নিয়ে চলে এলাম কুমিল্লার আসল রসমালাই মনোহরপুরের মাতৃভাণ্ডারে। ২ প্যাকেট রসমালাই নিলাম। এরপর কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে বাসে করে রাতেই ঢাকা ফিরে এলাম।

পরিশেষে বলতে চাই কম খরচে একদিনের ভ্রমণের জন্যে কুমিল্লা সব থেকে ভালো অপশন কারণ সময় ও খরচ তুলনামূলক কম লাগে।

0 comments

Leave a comment

Login To Comment