Image

সেইন্ট মার্টিন হ্যাক্স

সেইন্ট মার্টিনে এখন ফুল সীজন চলছে!! আপ্নাদের সুবিধার জন্য ২০১৮-২০১৯ এর ভেতরেই আমার শেষ ৪ বারের ভ্রমন অভিজ্ঞতা থেকে কিছু সেইন্ট মারটিন হ্যাক্স নিয়ে আস্লাম!! আশা করি, এতে যারা প্রথম বার যাবেন তাদের অনেক উপকার হবে!!

১. যেহেতু, ইন্টারনেট এখন আমাদের পকেটে!! সেহেতু, সেইন্ট মারটিন যাবার আগে একবার ইউটিউব করুন!! অনেক ভালো ভালো ট্রাভেল ভ্লগ ও ইনফো বেইজড ভিডিও পাবেন!! বিলিভ মি, এই কাজ টা করলে আপ্নার সেইন্ট মারটিন এর ব্যাপারে ৭০% আইডিয়া চলে আসবে!! অনেক ডিসিশন আপ্নি একাই নিতে পারবেন কারো হেল্প ছাড়াই!! ইউটিউবে আপ্নি তিহাম ট্রাভেলার, লাবিব ইত্তিহাদুল, শিশির দেব, ডাক্টার সাম্রুক সহ আরো অনেক ভ্লগার এর ভ্লগ পাবেন!! বেশী ভিউ আছে এমন কিছু ভিডিও দেখলে পুরো সেইন্ট মারটিন এর ব্যাপারে আপ্নার খুব সুন্দর এক্টা ভিজুয়াল আইডিয়া চলে আসবে!! ☺

২. যেহেতু সুপার পিক সীজন, তাই যে কোন বন্ধের দিন সেইন্ট মারটিন যেতে চাইলে চেস্টা করুন এক্টু আগে থেকেই শীপের টিকেট কেটে রাখতে!! বন্ধের দিন ছাড়া গেলে ঘাটেই টিকেট এভেইলেবেল পাওয়া যায়!! নো ওরিস!! শীপের টিকেট ক্লাস ভেদে ৬৫০-১৪০০ টাকা( আপ/ডাউন) ☺

৩. কবে যাচ্ছেন সেটা কনফার্ম হয়ে বাস এর টিকেট ও এক্টু আগেই করে ফেলুন সীট যতটা সম্ভব সাম্নে পাবার জন্যে!! কেননা, এখন কক্স থেকে রামু হয়ে ঘাট তক যাবার ৮২ কিলো অল্মোস্ট জাহান্নাম টাইপ খারাপ!! গাড়ি তে সিট পেছনে হলে আর যদি গাড়ির সাস্পেনশন ভালো না হয় তবে খুব ভোগাবে ব্যাপারটা!! আমি এই জন্যে এসি রিকমেন্ড করবো!! ভাড়া নন এসি ৯০০~১১০০ (ক্লাস বুঝে), এসি ১৭০০~২৩০০ টাকা!! যারা ঢাকা উত্তর (তেজগাও থেকে উত্তরা/আব্দুল্লাহপুর) থেকে যাবেন তাদের বলে রাখি যে, টিকেট যেখান থেকেই কাটুন না কেন, আপ্নাকে বাসে উঠতে হবে আরাম্বাগ/ফকিরাপুল থেকেই!! সো বাস ধরার জন্যে টাইম নিয়েই বের হন প্লিজ।। 🙏

৪. ব্র‍্যান্ড এর বাসের টিকেট কাটুন!! কোন প্লাস, ক্লাসিক, সুপার, স্পেশাল না!! সিম্পলি, যে গাড়ি যে অরিজিনাল ব্র‍্যান্ড এর, সেটাই কাটুন!! শ্যামলী হলে শ্যামলি এন আর ট্রাভেলস, হানিফ হলে হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি!! নো শ্যামলি প্লাস, নো হানিফ ক্লাসিক!! এতে অহেতুক বিড়ম্বনা এড়াতে পারবেন!!

৫. হোটেল যদি ঢাকা থেকে বুক করেই যান তবে তো কথাই নেই!! ছুটির দিন বাদে প্লাস ব্ল্যাক আউট ডে তে না গেলে হোটেল বুকিং এর তেমন দরকার নাই!! হোটেলে গিয়ে রুম দেখে দামাদামি করেই বুক করতে পারবেন, নো ওরিজ!!

৬. ঘাটে নেমে শীপের টিকেট বুকিং এর জন্যে আমি সবার আগে এগিয়ে রাখবো বড় ভাই কেয়ারী সিন্দাবাদ কে!! মাঝে সাঝে এক্টু এদিক সেদিক না হলে এই সী ট্রাক টাই আমার কাছে বেস্ট গতি দানব মনে হয় এক্সেপ্ট গ্রীন লাইন এন্ড বে ক্রুজ!! গ্রীন লাইনে বাবু সেজে গেলে তো আর কিছু বলার নাই!! তবে আপ্নি অপশন খুজলে কেয়ারী ই বেস্ট!! কেননা, এর নিজস্ব ঘাট আছে যেখানে প্রথমে সিন্দাবাদ, পরে ক্রুজ এন্ড ডাইন এংকর করে!! মাঝে মদ্ধে এদিক সেদিক দু একবার হয়!! তবে অন্যান্যদের মতন প্যারা নিয়ে নামতে হয় না কেয়ারী থেকে!! সময় ও বাচে!! আমার পছন্দ সিন্দাবাদের ওপেন ডেক!! ভাড়া ৭০০-৭৫০!!

৭. যে শীপেই যান না কেন হাতের ডান দিকের টিকেট কাটবেন, একদম ডান পাশ থেকে একটু ভেতরের দিকে!! এতে আসা যাওয়ায় বিন্দু পরিমান রোদ পড়বে না (যদি সিটেই বসে যেতে চান তো)!! সাথে ভিউ তো ফ্রী আছেই!! 😍

৮. ঘাটে নেমেই অগত্যা ভ্যান ভাড়া করবেন না!! এক্টু হেটে বাজারের মাঝ বরাবর ক্রস করে ইউরো বাংলা রেস্টুরেন্ট পার করে এগিয়ে গিয়ে ভ্যান ভাড়া করুন! অনেক সাশ্রয় হবে!! মনে রাখবেন, এই সিজনে ঘাট থেকে দক্ষিন দিকে হাইএস্ট ভাড়া ৪০০/৫০০~৮০০।। আর পশ্চিম বিচ শেষ প্রান্ত তক ভাড়া হাইএস্ট ২০০/২৫০~৩০০/৩৫০। এই ভাড়া গুলাই সময় সুযোগে ১০০০ হয়ে যায়!! উত্তরে যাবেন, হাহা; উত্তরে উত্তাল সাগর!! রাস্তা নেই!! 😁

৯. যতই খিদে পাক না কেন, শীপ থেকে নেমেই খেতে/লাঞ্চ করতে যাবেন না!! কেননা, আপ্নি শিওর থাকেন যে, জাহাজে করে যত মানুষ এসেছে তার অল্মোস্ট আধেক দিনে গিয়ে দিনে চলে আসার যাত্রী!! এরা নেমেই লাঞ্চ করে বলে এদের জন্যে অই সময় খাবার রেইট ও বেশী থাকে!!সো এই ফাকে হোটেল চুজ করতে যান, পেলে চেঞ্জ করে, ফ্রেশ হয়ে দুপুর ২.৩০ এর পর খেতে আসুন!!খাবারের দামের ফারাক টা আপ্নি ই দেখতে পারবেন!! 😋

১০. ইন্সট্যান্ট হোটেল নেবার ক্ষেত্রে, বাজারের আশ পাশ, বাজার সংলগ্ন বীচের আশ পাশ এড়িয়ে চলুন!! এদিকের হোটেল গুলোর প্রাইজ ও বেশী প্লাস কোলাহল ও বেশী!! এক্টা ভ্যান ভাড়া করে সোজা পশ্চিম/দক্ষিন- পশ্চিম বীচের দিকের হোটেল গুলায় চলে যান!! ধুমিয়ে দামাদামি করে রুম নিন!! মনে রাখবেন, সেইন্ট মারটিন ইজ এ প্লেইস অফ বারগেইনিং!! ৫০% থেকে শুরু করুন দামাদামী( যে কোন পারচেইজ এর ক্ষেত্রেই)।। সাধারনত, সেন্ট এর হোটেল দু ধরনের।। ১/ এডজাস্টেবল রিসোর্ট বেইজ
২/ সেমি এডজাস্টেবল গেস্ট হাউজ/ কটেজ বেইজ!! ১ এর ভাড়া ১৫০০-৩৫০০ তক ওঠানামা করে, আর ২ এর ভাড়া এই সিজনে ১০০০ থেকে ২০০০/২২০০/২৫০০ ( যার থেকে যেমন, তবে অবশ্যই রুম ফ্যাসিলিটি, লোকেশন, বীচ থেকে দুরত্ব ফ্যাক্ট)।। শীপ থেকে নেমেই হুট হাট হোটেল ঠিক করতে গেলেও দামের অনেক তফাত পাবেন, কেননা সবাই নেমেই হোটেল বুক করতে যায়!! রিলাক্স, চিল!! নাম্লেন মাত্র, এক্টু হাটুন সাম্নের দিকে, গা হাত পা ছাড়ান, চায়ের দোকানে বসুন, এক কাপ চা খান, আয়েশ করে সিগারেটে এক্টা টান দিন কেননা আপ্নি এখন সেইন্ট মারটিনে 🙊!! সাথে প্রিয়জন কেউ থাক্লে তাদের ডাব খেতে দিন!! ভাই, টোটাল সেইন্ট মারটিন এক্টা কারনিভাল!! এঞ্জয়, গো উইথ দা ভাইব মামা মিয়া!! 😎

১১. ১/২ রাত সেইন্ট মারটিন এ থাকুন!! তা না হলে আপ্নি ঘুরবেন ঠিক ই, তবে সেইন্ট মারটিন কে চিন্তে পারবেন না!! কে যানে, আপ্নার এন্টায়ার লাইফে যে কটা শুটিং স্টার দেখেছেন, তার চেয়ে বেশী হয়তো আপ্নি ওখানের এক রাতেই দেখতে পাবেন!! হয়তো আরো পাবেন জোনাকি রাতের ঢেউয়ে ভেসে আসা নীলাভ আলোকময় জেলী ফিস(নট লাইক এক ভিলেন মুভি, বাট পারশিয়ালি পসিবল ইফ ইউ আর লাকি)!! 😍

১২. খাবার হলো যার যার জিহবার ব্যাপার!! তবে সবাই সাইনবোর্ড ওয়ালা নোয়াখালী রেস্টুরেন্টটি এভোয়েড করতে বলেন!! আমিও তাই বলি!! তবে জেটি থেকে বাজারে ঢুকে কিছুদুর এগিয়ে গেলে হাতের বামে সী ফাইন্ড নামক এক রেস্টুরেন্ট পাবেন যার ঠিক পরেই আছে 'কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট'!! শেফ দেখবেন একজন ছোট খাটো সাইজের হুজুর!! আর ঠিক তার অপোজিটে দেখবেন নামহীন আরেকটি রেস্টুরেন্ট (এখন সাইনবোর্ড দিয়েছে কি না জানি না, গত মাসে ছিলো না), যার মালিক নোয়াখালীর!! বিলিভ মি, বাজারে যত গুলো রেস্টুরেন্টে খেয়েছি, তাদের ভেতর এরাই টেস্ট বুঝে আপ্নার জন্যে সুন্দর করে সব আইটেম কুক করে দেয়!! কুমিল্লা রেস্টুরেন্টটির সেই হুজুরের হাতে ভালোই জাদু আছে!! তার বানানো সকালের ডিম খিচুড়ি টপ ক্লাস!! এই রেস্টুরেন্ট দুটায় সিদ্ধ চালের ভাত ও পাবেন!! আর গ্রেভী আইটেম এর জন্যে এরা বেস্ট!! আপ্নি আপ্নার মাছ যেভাবে বলবেন, তারা সেভাবেই করে দিবে!! এক বেলা খেয়ে দেখুন, পরের বেলায় আপ্নি ই আবার যাবেন!! এই কথা গুলো বলার কারন হলো, সেইন্ট মারটিন এর মানুষদের খাবার টেইস্ট এক্টু অন্য রকম!! তারা টেইস্টের ব্যাপারটা খুব একটা বোঝেন না!! শখ করে এক্টা রুপচাদা গ্রেভী খাবেন তো দেখবেন তারা এমন ঝোলের তরকারী এনে দিয়েছে যে, আপ্নার খাবার রুচি ই চলে যাবে!! আর বারবিকিউ এর জন্যে স্পেশাল কারো কথা বলবো না, কেননা দিন শেষে সবাই ই মাছ পুড়েই খাচ্ছে!! তবে ইউরো বাংলা ভ্যারাইটিজ মাছ রাখে!! অপশন পাবেন!! ডাব দামাদামি করে খাবেন!! সিংগারা, সমুচা ঢাকার সিস্টেমে দাম না জিজ্ঞেস করে ভুলেও খেতে যাবেন না!! সকালের খাবার টা এক্টু সময় করে খান, এতে করে দুপুরের খাবার টাও এক্টু পরে আইমিন ২.৩০ এর পর খান!! অনেক সেইফ হবে এতে!! সন্ধ্যায় মাছ ভাজা খেতে চলে যান পশ্চিম বীচে!! স্ট্যান্ডার্ড মিল খরচ পড়বে এই সিজনে পার পারসন অল্মোস্ট ১৫০~১৭০, প্যাকেজ সিস্টেমে।। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেইন্ট মারটিন এ গেলে মাছ ছাড়া কিছুই খাই না!! ভাতের সাথে মাছ, রুটি দিয়েমাছ, খিচুড়ি দিয়ে মাছ!! আর এতে আমার খরচ টাও এক্টু বেশী ই পড়ে তুলনামুলক!! 😥

১৩. অনেক তো সেইন্ট মারটিন ঘুরলেন, চলেন এবার ঘুরে আসি ছেড়া দ্বীপ!! এডভেঞ্চারাস হলে, অনেক কস্ট করার মেন্টালিটি, ইয়ং ও এনারজেটিক হলে, সাইকেল বা পায়ে হেটে যেতেই পারেন!! কিন্তু, আমি কখনো এটা সাজেস্ট করি না!! আমি অনেক পালোয়ান/ বীরদের অবস্থাও দফারফা হতে দেখেছি!! যাই হোক, ছেড়া দ্বীপ যাওয়ার রিলাক্সড ওয়েতে সবচেয়ে ভালো উপায় বড় ট্রলার( ভাড়া ২০০-২৫০), লাইফবোট (২০০-৩০০) এবং স্পীড বোট (২৫০-৩৫০)!! ভীর বাট্টা কম/বেশী হলে কিছুটা আপ- ডাউন ও হতে পারে!!
এখন কথা হলো, কোনটি তে করে যাওয়াটা আপ্নার জন্যে সবচেয়ে কনভেনিএন্ট!! আমাকে আস্ক করলে আমি বলবো যে স্পীড বোট!! হয়তো ভাড়া এক্টু বেশী!!
তবে ঘটনা টা অন্য জায়গায়!! স্পীড বোটে গেলে আপ্নি সাগরের রোলিং এর এক্টা অদ্ভুত থ্রীল পাবেন!! প্রায় সাড়ে ৭ মিনিট সময় লাগে জেটি থেকে ছেড়া দ্বীপে যেতে!! সাগরের এই ৭ মিনিট আপ্নার জীবনের অন্যতম ৭ মিনিট ই হয়ে থাকবে ট্রাস্ট মি!!! আর এর পরেই আসে এক্টা ঝামেলা!! ছেড়া দ্বীপে আপ্নি কোন বোট থেকেই ডিরেক্ট নামার উপায় নাই!! আগে উল্লেখ করা বোট গুলো থেকে প্রথমে আপ্নাকে ছোট ডিংগি তে নামতে হবে, তারপর সেই ডিংগি থেকে দ্বীপে!! এখন ব্যাপারটা হলো, বড় বোট গুলো থেকে ছোট ডিংগি তে নামার সময় এক্টু রোলিং হয় যেটা মহিলা ও বাচ্চাদের জন্যে এক্টু প্যারানয়েড!! ইভেন আমার মতন যারা পানি এক্টু এড়িয়ে চলেন তাদের ও!! তবে এক্ষেত্রে স্পীড বোট রিলাক্স!! স্পীড বোট আর ডিংগির হাইট সেইম হওয়ায় পারাপার হওয়া বেশ আরামদায়ক!!

১৪. সান সেটের টাইম টা এদিক সেদিক না ঘুরে পশ্চিম বিচের প্রবাল এর এখানে চলে আসুন!! ভিজিবল যতদুর প্রবাল এর উপর দিয়ে আপ্নি হেটে যেতে পারবেন ততদুর যান, বসে পড়ুন!!আপ্নার একদম সাম্নেই ঢেউ আছড়ে পড়বে, আর চোখের সাম্নে ভাসবে ডুবুডুবু সুরুজের রক্তিম আভা!!এই সময় টা উপভোগ করুন!!! আকাশের দিকে তাকান, নতুন করে দেখুন আকআশ টাকে, বিলিভ মি, আপ্নি না চাইলেও আপ্নার মনে কয়েক্টি প্রশ্ন আসবে!! তা হলো, আপ্নি কে?? আপ্নি কেন??? কেনই বা এখানে এসেছেন?? কোথায় ছিলেন?? কোথা থেকে এসেছেন?? আর কোথায় যাবেন?? ৪/৫ মিনিটের এক্টা বেস্ট সান সেট ট্রেলার আপ্নি এখান থেকে পাবেন!!! 😍😍 পোরটাল ধরে অন্য কোন ডাইমেনশনে যেতে চান?? এখান থেকে আপ্নি আকাশের দিকে তাকালে সেই ওপেন পোরটাল ও দেখতে পাবেন!! এমন কি সুরুজ ডোবার সময় হাতের বাম কোনে যে দুটো তারা সবার আগে ওঠে, সেদিক এ মিনিট তিনেক তাকাতেই দেখবেন যে হাতের ডান দিক( উত্তর হতে) থেকে এক্টি প্লেইন আসবে ধীরে ধীরে এবং লালাভ হলুদ মেশানো নীলচে আকাশ চীড়ে সেই দুই তারার নিচ দিয়ে কি সুন্দর ক্রস করে চলে যাবে!! জাস্ট ১ মুহুর্তের জন্যে হলেও আপ্নার মনে হবে, জীবন টা মন্দ নয়!! আর এক্টা দিন আমায় বেশী বাচতে দাও ইশ্বর!! আমি তোমার সব সুন্দর প্রান ভরে দেখতে চাই!! 😍

১৫. মনে রাখবেন, এখন পিক সীজন!! খরচ বেশ খানিক টা হবেই!! এই সময়ে সেইন্ট মারটিন এ বাজেট ট্রিপ দেয়া প্রায় ই দুস্কর!! আর তিন বেলা মাছ খেলে কিন্তু খরচ আর এক্টু বাড়বেই!! ব্যাপারগুলা মাথায় রেখেই যাবেন, কেননা পরে অনেক্কেই বিকাশ এর দোকানে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়!!😂😂

১৬. একদিন দুপুর থেকে বিকাল টা সেইন্ট মারটিনের ভেতরের ১ টাই বড় রাস্তা আছে সেটা দিয়ে যাবার জন্যে রাখুন!! এটা দিয়ে মুল গ্রামে/ সেইন্ট মারটিন এর ভেতর টা ঘুরে দেখতে পারবেন!! তরমুজ ক্ষেত পাবেন তরমুজ খাওয়ার জন্যে!! দ্বীপের মানুষ দের ব্যাপারে জানুন!! এই পথ টা একদম পীচ ঢালাই করা, যেটা হেটেই শেষ করা যায়( ভেতর দিয়ে নজ্রুল পাড়া তক)!! ট্রাস্ট মি, বোরড হবেন না!! ☺

১৭. অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, কোন সিমের নেট ভালো ওখানে!! হাহাহ!! সেইন্ট মারটিন এ সবার ই ভালো নেট পাবেন!! তবে আমি ওস্তাদের ভক্ত!! আই মিন জিপি তেই আমার সব ভরসা!! রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক ও ভালোই পাওয়া যায়!! নো ওরিস!!

১৮. এবার আসি এক্টু বিকল্প রাস্তায় যারা যাবেন তাদের জন্যে!! আই মিন যারা এক রাত কক্সে থেকে সেইন্ট মারটিন যেতে চান তাদের ব্যাপারে!! এই ব্যাপারে আমি বলবো যে, কক্সে আগে না থেকে প্রথমে সেইন্ট মারটিন যান, তারপর আসার পথে কক্স এ আসুন( ফ্যামিলি হলে)!! বন্ধু বান্ধব মিলে গেলে আপ্নার ইন্সটিনক্ট যা বলবে সেটাই করুন, নো প্রব্লেম!! তো এই প্ল্যান টা এমন ভাবে করুন যেনো প্রথমে সেইন্ট মারটিন দেখবেন, উপভোগ করবেন তারপর জাস্ট যে ২ টা জিনিস আপ্নি সেইন্ট মারটিন এ মিস করে এসেছেন, কক্সে এসে সেটা ফুল্ফিল করে নিশ্চিন্তে শান্তির ঘুম দিয়ে পরদিন বাসে চড়ে ঢাকা চলে আসুন!! কই মিস করবেন?? মিস করবেন কক্সের বিশাল ঢেউ আর সেই বিষাল ঢেউ এর বীচে আচড়ে পড়ার সেই শব্দ!! বিলিভ ভাই, দু তিন রাত সেইন্ট এ থাকার পর কক্সে এসে আমি যেদিন আমার বুম এ ঢেউ এর সাউন্ড টা নিয়েছিলাম আমার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিলো!! নেচার এর চেয়ে সুন্দর গান এই দুনিয়ায় আর কেউ গাইতে পারে না!! যাই হোক, আসার জন্যে টেক্নাফ ঘাট থেকে 'সরাসরি বাস সারভিস' নামক বাস পাবেন যেটা ডল্ফিন মোড় তক যায়!! ভাড়া, ১৫০-১৬০ টাকা!! এর সব গুলা বাস ই শীপ ঘাটে আসার পর থেকে ছাড়ে!! আর যদি কক্স হয়েই সেইন্ট মারটিন এ যান তবে, ২ টা রাস্তা!! ১) মেরিন ড্রাইভ ২) রামু হয়ে সচরাচর রাস্তা।।
রামু দিয়ে গেলে খুভ ভোরেই বের হবেন, ৫-৫.৩০/৬ টা এর ভেতরেই ডল্ফিন মোড়ে সরাসরি বাস সারভিস পাবেন টু টেক্নাফ!! আর জদি সিএঞ্জি করে যেতে চান মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে তবে ৮০০-১২০০ টাকা নেবে ফুল সিএঞ্জি রিজার্ভ অথবা জন প্রতি ২০০-২৫০ করে নেবে!! প্রেফারেন্স আপ্নার!!! ☺

আপাতত, এই শেষ!! আর নতুন কোন টপিক্স মনে হলে ১৯ নম্বর সিরিয়াল নিয়ে চলে আসবো!! টিল দেন, ভালো থাকবেন!! হ্যাপি জার্নি!! বেস্ট অফ লাক!! আর যে কোন প্রকার সাজেশনের দরকার হলে কমেন্ট / ইনবক্স!! ☺☺

লাস্ট বাট নট দা লিস্ট, আপ্নার অপ্রয়োজনীয় এক্টা সুতাও এখানে সেখানে ফেলবেন না প্লিজ!!! ব্যাগে রাখবেন, হোটেলে এসে ডাস্টবিনে ডাম্প করবেন!! তা না হলে, আগামী ৫/৭/১০ বছরের ভেতর আমাদের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপ সেইন্ট মারটিন ও বিলুপ্ত দ্বীপের কাতারে চলে যাবে!! ☺☺

**নীচের ছবিটি ছেড়া দ্বীপ থেকে তোলা বাংলাদেশের ভু খন্ডের সবশেষ বিন্দুতে অবস্থিত পতাকা!! সোনার কি না জানি না, তবে এটাই আমার দেশ, বাংলাদেশ!!

0 comments

Leave a comment

Login To Comment