Image

Bhrigu Lake Trek & Valley Of Gods Manali

ইচ্ছা ছিলো এই মাসে (october)ভারতের কোনো একটা রুটে ট্রেকিং করার,,,আমার কাশ্মীর গ্রেট লেক যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কাশ্মীর এর পরিস্থিতি খারাপ থাকাতে ওই প্লান বাদ দেই,,,তারপর আমার টিমমেট মুকিত ভাই এর কাছে mount bhrigu lake এর কথা শুনে প্লান করি যাওয়ার,,,

১৩৮৯৪ ফিট উচ্চতায় চমৎকার একটি লেক হচ্ছে Bhrigu Lake (top 14100)...যার অবস্থান হিমাচল প্রদেশের কুল্লু জেলার মানালিতে।

২৪ তারিখ সকাল ১০ টায় নাস্তা সেরে দুপুরের জন্য লাঞ্চবক্স নিয়ে আমাদের ট্রেকিং শুরু হয় মানালি থেকে 4/5 কিলো দুরে কুলাং থেকে,,,শুরুতেই আমাদের ট্রেকিং পরিক্ষা নেয় কুলাং এর খাড়া পাহাড়,,,অসাধারণ সব দৃশ্য, সাদা পাহাড়ের রূপ,মনমুগ্ধকর পাইন বন আর জংগলের ভিতর দিয়ে যখন বেস ক্যাম্পে পৌঁছাই তখন প্রায় বিকেল 5টা,,,বেস ক্যাম্প দেখে মনটা শান্তি পায় এই ভেবে যে আজকে আর ট্রেকিং করা লাগবে না,,,😉😉😉

আমরা মানালি থেকে Northface Adventure এর মাধ্যমে প্রতিজন ৫০০০ টাকার ২ রাত ৩ দিনের প্যাকেজ টা নেই,,, শুরুতে তাদের বেস ক্যাম্প ১২০০০ ফিট থাকলেও এই বছর তারাতারি স্নোফল আর বেশি ঠান্ডা পরে যাওয়াতে তাদের বেস ক্যাম্প ৯০০০ ফিট এর মরিডগে নিয়ে আসে,,,

রাতে মরিডগে -৬ তাপমাত্রা আমাদের বেশ ভালই পরিক্ষা নেয়,,,পরদিন সকাল ৭ টায় রওনা করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ঠান্ডার জন্য আমাদের ট্রেকিং শুরু হয় সকাল ৯ টায়,,,😑😑😑

গহীন জংগল,নেড়া পাহাড়, পাথরের স্তুপ,আর অতিরিক্ত ঠান্ডা যখন আমাদেরকে দমিয়ে দিচ্ছিলো তখন অসাধারন পাইন বন, বিয়াস কুন্ড আর হনুমান টিব্বা সাদা পাহাড়ের ভিউ বারবার আমাদের এনার্জির জোগান দিচ্ছিলো,,,খাড়া পাহাড় আর অতিরিক্ত ঠান্ডার প্রতিকুলতা পেরিয়ে যখন Mount Bhrigu পৌছাই তখন প্রায় ৪.৩০,,,✌✌✌প্রায় ৯০০০ ফিট থেকে ট্রেকিং শুরু করে ১৪১০০ ফিট,,, প্রায় ৫০০০ ফিট একটানা ট্রেকিং করার অভিজ্ঞতা টা আমাদের জন্য ছিলো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ,,, যদিও আমরা অনেকটা সময় রেস্ট নিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠি এবং মাঝে লাঞ্চ সেরে নেই। 😥😥😥

Best view comes after the hardest climb...এই কথাটির সারমর্ম বুঝতে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে Bhrigu lake আর তার আশেপাশের চমৎকার চোখ জুড়ানো সব ভিউ দেখছিলাম,,,😍মানুষ কেনো এতো টাকা খরচ করে & জীবন বাজী রেখে সাদা পাহাড়ে যায় তা বুঝার বাকি ছিলো না,,,উপরে উঠে কিছুক্ষন পরে মুখ দিয়ে স্পষ্ট কথা বের হচ্ছিলো না,,,সেটা সম্ভবত বেশি ঠান্ডার জন্য । 🤔🤔🤔

bhrigu lake কিছু সময় থেকে তারপর ফেরার পালা😑,,,৫ টার দিকে আমরা ফেরার পথ ধরে পান্ডোরপা হয়ে একেবারে খাড়া নামতে নামতে যখন বেস ক্যাম্প পৌছাই তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা,,,খুব ক্লান্ত থাকাতে একটু তারাতারি রাতের খাবার সেরে শুয়ে পরি আমাদের জন্যে ঠিক করা তাবু তে।

আগের দিনের ধকল সামলাতে আমরা একটু দেরীতেই ঘুম থেকে উঠি🥴,,,সকালে নাস্তা করে লাঞ্চবক্স নিয়ে যখন ফেরার পথ ধরি তখন সকাল ১০টা,,,ফেরার সময় আমরা Vashist হয়ে যখন মানালি পৌছাই তখন দিওয়ালি র প্রস্তুতি চলছে মল রোডে,,,তারাতারি হোটেল নিয়ে ৩দিন পর গোসল সেরে যখন বারান্দায় যাই স্কুলের বাচ্চাদের তখন দিপাবলীর প্রতিযোগিতা চলে আর চলে একে অন্যকে রঙ দেয়ার প্রতিযোগিতা ,,,বিকেলে মল রোডে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,আতশবাজির ঝলকানি আর নানান দেশের পর্যটকের ভীড় দেখতে দেখতে কখন যে সময় চলে গেছে টেরই পাইনি,,,🤠🤠🤠

পরদিন সকালে নাস্তা সেরে আমরা যাই সোলাং ভ্যালি,,, সেখানে প্যারাগ্লাইডিং করে হয় এক নতুন অভিজ্ঞতা,,, ভয় কে জয় করে পাখির চোখে সাদা পাহাড় আর সোলাং ভ্যালি দেখতে যে কতটা সুন্দর তা সত্যি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব🤪🤪🤪,,,প্যারাগ্লাইডিং শেষে আবার ফিরে আসি Old মানালিতে,,সেখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে লাঞ্চ সেরে যাই ক্লাব হাউজ,,,সেখানে নদীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করে সন্ধ্যার আগেই চলে আসি মানালি মল রোডে।

একের পর এক বাজি ফুটানোর প্রতিযোগিতা আর আতশবাজির ঝল্কানি দেখে প্রথম বারের মত দিওয়ালি উপভোগ করা টা সত্যিই অসাধারণ ছিলো,, মনে হচ্ছিলো কানের পর্দা আমার আজই শেষ,,,🥳🥳🥳

পরদিন আমরা চলে যাই কুল্লু তে,,, শহরে পৌছেই hot spice restaurant এ লাঞ্চ সেরে নেই ভরপুর বিরিয়ানি খেয়ে ,,,হোটেলে উঠে পড়ে যাই কুল্লু শহরের প্রেমে,,,মাত্র ১০০০ রুপিতে এতো সুন্দর হোটেল আর বারান্দা থেকে এমন অসাধারণ ভিউ ছিলো আমাদের জন্যে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা,,,হোটেলের বারান্দা থেকেই পুরো কুল্লু শহরটা দেখা যায়😍😍😍,,,বিকেলে বের হয়ে কুল্লু শহর ঘুরাঘুরি করি,,,পরদিন সকালে উঠে দিল্লি যাওয়ার বাস কনফার্ম করি আর নাস্তা সেরে কুল্লু শহর ঘুরাঘুরি করি,,, বিকেলে Domino's pizza তে গিয়ে বুঝতে পারি এখানে থালি খাওয়ার থেকে পিজ্জা খাওয়ার খরচ কম,,,রাতে ৯ টার বাসে রওনা করে শেষ হয় আমাদের মানালি ট্রিপের অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা,,,😥😥😥

ভ্রমণ খরচ প্রতিজন,,,,,

ঢাকা থেকে আমরা চিত্রা এক্সপ্রেসে করে রওনা হই যশোর এর উদ্দেশ্যে (৪৭৫ টাকা)।
সেখান থেকে বাসে করে বেনাপোল (60 টাকা)।
বর্ডার ক্রস করে অটোতে করে বনগা (30 রুপি)।
সেখান থেকে ট্রেনে দমদম (২০রুপি)।
আমাদের ট্রেন ছিলো সাড়ে 6টায়,তাই কিছু সময় আমরা কলকাতায় ঘুরাঘুরি করি।

কলকাতা - দিল্লি দুরন্ত এক্সপ্রেসের টিকেট আগে থেকেই করা ছিলো (৩৫০০টাকা) ২টা স্টেশনে ব্রেক দিয়ে মাত্র ১৭ ঘন্টায় আমাদের দিল্লি পৌছে দেয়, সার্ভিস অসাধারণ ।
দিল্লি - মানালি বাস(মাজনু টিলা থেকে ৯০০ রুপি)প্রাইভেট বাস গুলি ৯০০রুপি-১৩০০রুপি পর্যন্ত উঠানামা করে,আর কাশ্মীরী গেট থেকে সরকারী বাস যাতায়াত করে ৭০০-১৭০০রুপি পর্যন্ত।
মানালি তে আমরা পৌঁছেই আমরা একটা হোটেলে উঠি, ৩জন একটা রুমে ৫৫০ রুপিতে,খুব সুন্দর রুম গিজার সহ,,,মানালিতে হোটেল খরচ খুবই কম,,এক টু ঘুরাঘুরি করলে অনেক কম খরচে হোটেল পেয়ে যাবেন,,,আর Bhrigu Lake থেকে ফিরে উঠি আরেকটা হোটেলে (৩জন 600রুপি)।
মানালি -সোলাং ভ্যালি আসা যাওয়া (৮০০রুপি কার)।
মানালি - কুল্লু লোকাল বাস (৭০রুপি)।
কুল্লুতে হোটেল খরচ,,, (১০০০ রুপি)।
কুল্লু - দিল্লি বাস (১১০০ রুপি)volvo semi sleeper
দিল্লিতে পাহাড়গঞ্জে একটা হোটেলে উঠি (৭০০রুপি)রুম এর অবস্থা ভালো না।
দিল্লি -কোলকাতা এয়ার (৩২০০রুপি)indigo,আমরা ৩দিন আগে টিকেট অনলাইনে কনফার্ম করি,আর দাম অনেক কম ছিলো দিওয়ালির পরের দিন গুলোতে।
কোলকাতা তে হোটেল খরচ (১৪০০রুপি) আমাদের কিছু কেনাকাটার জন্য কোলকাতা ২দিন থাকি
কলকাতা -ঢাকা (১৪০০ রুপি) রয়েল কোচ,ওদের বর্ডার এর সার্ভিস ভালো না,কারন আমাদের কুলির ঝামেলা তে পরতে হইসিলো, যেখানে তাদের সাথে কথা ছিলো আমাদের কোনো কুলির খরচ লাগবে না,,,😥😥😥

আমাদের পুরো ট্রিপটাই ছিলো বাজেট ট্রিপ,,,আমাদের লক্ষ্য ছিলো Bhrigu Lake,,,তাই মানালির অন্য যায়গা গুলো স্কিপ করি,,,আমরা মোটামুটি অনেক কিছুই আগে থেকে ঘাটাঘাটি করে প্লান করে রাখি,যার পুরো ক্রেডিট মুকিত ভাইয়ের,প্রায় পুরো প্লান টাই তার করা,,,আপনারা যারা যাবেন তারাও আগে থেকে ওই যায়গা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিবেন,,,আর মানালি তে প্রচুর ঠান্ডা, দিনের বেলায় তাপমাত্রা ১০ এর নিচে থাকে আর রাতে প্রায় ০ এর কাছাকাছি চলে আসে,,,,,,,,

#বিঃদ্রঃ যেখানেই যান পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকবেন,,,পরিবেশ নোংরা করবেন না,,,,,,

(আমি ভালোভাবে গুছিয়ে লিখতে পারি না,,,তাই কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

0 comments

Leave a comment

Login To Comment